বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় তৃতীয় স্থান করে নিয়েছে ঢাকা।
মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ু মান সূচক (AQI) দাঁড়িয়েছে ১৬৬। এই মান অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আইকিউএয়ার প্রতিষ্ঠানটি বায়ুদূষণের অবস্থা নিয়মিত প্রকাশ করে। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সেই সম্পর্কে মানুষকে অবগত করে এই প্রতিষ্ঠান।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী বায়ুমান ১৫১-২০০ হলে তা অস্বাস্থ্যকর বাতাস হিসেবে বিবেচিত হয়।
আইকিউএয়ারের তথ্য মতে, বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারতের দিল্লি (বায়ুমান ২৬১), এরপর পাকিস্তানের লাহোর (বায়ুমান ২১৭)।
বুধবার সকাল ৮টার দিকে আইকিউএয়ারের মানদন্ডে ঢাকার বায়ুমান ছিল ১৯৩। যা অস্বাস্থ্যকর সীমাকে পার করে প্রায় খুবই অস্বাস্থ্যকর (২০১-৩০০) সীমার কাছাকাছি।
এ সময় ঢাকা শহরের আট এলাকায় বায়ুমান বেশ খারাপ ছিল। এসব এলাকার মধ্যে শীর্ষে আছে পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি, বায়ুমান ১৭৭। এছাড়া দক্ষিণ পল্লবী (১৭৬), কল্যাণপুর (১৬৭), বে’জ এজ ওয়াটার (১৬৫), গোরান (১৬৪), ইস্টার্ন হাউজিং (১৬০), শান্তা ফোরাম (১৫১) এবং গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (১৪৯)।
আইকিউএয়ার-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ঢাকা ও অন্য শহরগুলোর যে বায়ুমান, এর পরিপ্রেক্ষিতে নগরবাসীর জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছে এ প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরামর্শগুলো হলো- ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরে যেতে হবে, জানালা বন্ধ রাখতে হবে, ঘরের বাইরে ব্যায়াম যতটুকু সম্ভব এড়িয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি যেসব এলাকায় বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর, সেসব এলাকায় গমনকালে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
বাতাসে কণা দূষণের এই সূচক ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘ভালো’ বলে গণ্য করা হয়। বায়ুমান ৫১ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘মাঝারি’, ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে, বায়ুমান ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত থাকলে সে বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এছাড়া, বায়ুমান ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয় এবং ৩০১ এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশে একিউআই সূচক নির্ধারিত হয় পাঁচ ধরনের দূষণের ভিত্তিতে। সেগুলো হলো বস্তুকণা, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনো-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ও ওজোন।


