২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব একটি ‘সৃজনশীল বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার রাতে সংসদ ভবনে নিজের চেম্বারে বাজেটের ওপর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, দেশের সব শ্রেণির মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, যা অর্থনীতিকে দ্রুত সচল করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ ও চিন্তাভাবনা অনুযায়ী অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সকলের সহযোগিতায় এই বাজেট প্রণয়ন করেছেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকালে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী বাজেট বিল ও বক্তৃতা উপস্থাপন করেন। এর আগে মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদিত হয়।
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসন এবং পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতায় দেশের অর্থনীতি যে চরম ভঙ্গুর ও অগোছালো অবস্থায় পড়েছিল, তা থেকে উত্তরণে এই বাজেট যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
তিনি বাজেটকে ‘সৃজনশীল’ বলার কারণ হিসেবে বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ৪১ লক্ষ পরিবারপ্রধান নারীর জন্য ফ্যামিলি কার্ডে ১ লাখ ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ, কৃষকদের আড়াই হাজার টাকা করে প্রণোদনা ও কৃষক কার্ড, এবং মসজিদসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে মাসিক সম্মানী প্রদান।
এ ছাড়া দেশীয় উৎপাদন ও বিনিয়োগকারীদের জন্য নজিরবিহীন কর রেয়াত এবং বিদেশি পণ্যে কর আরোপের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পকে শতভাগ সুরক্ষা দেওয়ার প্রশংসা করেন তিনি।
বাজেটের নতুন চিন্তাভাবনা হিসেবে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ ও ‘স্পোর্টস ইকোনমি’র কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মাসিক সম্মানী, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস আয়োজন, ইন্টার স্কুল খেলা এবং ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তির পাশাপাশি ৬৪ জেলায় ভিলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ‘একটি গ্রাম একটি পণ্য’ উদ্যোগের আওতায় ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পগুলোকে বাজারজাতকরণ এবং রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে ১৬০ একর জায়গার ওপর বিশ্বমানের ‘ক্রিয়েটিভ হাব স্থাপনের উদ্যোগ অর্থনীতিকে বহুদূর এগিয়ে নেবে।
এসএমই খাতে ঋণ, প্রবাসী কার্ড, হাইটেক পার্ক এবং গ্রামীণ সড়ক সংরক্ষণে নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে আইন সহজ করা হয়েছে এবং শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ ও স্বাস্থ্য খাতে ১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বরাদ্দে বড় পরিবর্তন আসবে।
অর্থনীতির সাবেক শিক্ষক মির্জা ফখরুল রাজস্ব আয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বলেন, করনীতি ও কর ব্যবস্থাপনাকে পৃথক করা হয়েছে এবং কাস্টমসের পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন ও করদাতাদের পরিধি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর প্রদানে হয়রানি রোধ ও সহজ রিটার্ন ব্যবস্থার কারণে ব্যবসায়ীরা এখন স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা করতে পারবেন। শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুবিধাও রপ্তানি খাতকে গতিশীল করবে। বাজেটে উৎপাদন বৃদ্ধির যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি এমনিতেই কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যোগ করেন তিনি।
এই বাজেট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি যুগান্তকারী বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বিকালে অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন।


