আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি ও তথ্য-সংস্কৃতি খাতকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের নীতি সহায়তা ও করছাড়ের প্রস্তাব করা হচ্ছে।
বলা হয়েছে, ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত করা হবে। একইভাবে ফ্রিল্যান্সারদের সব ধরনের আয়ের ওপর কর অব্যাহতি সম্প্রসারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যাতে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আয় প্রবাহ বাড়ে। স্টার্টআপ খাতে ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে এ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন।
সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র খাতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি ও প্রযোজনা ব্যয় কমাতে শুল্ক হ্রাস। উচ্চপ্রযুক্তির সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হবে। একই হারে সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও প্রজেক্টরের খুচরা যন্ত্রাংশেও শুল্ক কমানো হবে।
সংগীত ও সৃজনশীল শিল্পকে সহায়তার অংশ হিসেবে গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বিভিন্ন মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট এবং তাদের যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হচ্ছে। এতে সংগীত প্রযোজনা ও নতুন শিল্পীদের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সহজলভ্য হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণে পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) মেশিন আমদানিতে শুল্ক হ্রাস এবং ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও উৎসাহিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে তথ্য ও সম্প্রচার খাত এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শিল্পগুলোকে আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে। তরুণদের সৃজনশীলতাকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কর ও শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, সংগীত, ডিজিটাল মিডিয়া ও কনটেন্ট ইন্ডাস্ট্রি নতুন এক প্রবৃদ্ধির ধাপে প্রবেশ করতে পারে এবং ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।


