সরকারের ‘কালো টাকা’ না রাখার অঙ্গীকার শুরুতেই হোঁচট খাচ্ছে। খসড়া অর্থবিলের একটি নতুন ধারা অনুযায়ী, উৎসের কোনো প্রশ্ন ছাড়াই আবাসন খাতে বিনিয়োগ করা অপ্রদর্শিত টাকা বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বাজেট পেশের আগে এই প্রস্তাব সামনে এল। অথচ সরকার শুরু থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণার কথা বলে আসছে।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম নতুন বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে খসড়া বিলটি তার বিপরীত। এটি জমির ক্রেতা ও বিক্রেতাদের গোপন লেনদেন প্রকাশের সুযোগ দিচ্ছে। একই সঙ্গে দিচ্ছে আইনি স্ক্রুটিনি থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি।
দলিলদৃষ্ট মূল্যের চেয়ে সম্পত্তির প্রকৃত দাম বেশি হলেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এই প্রক্রিয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই অপ্রদর্শিত অর্থ ঘোষণা করতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ, কোনো সম্পত্তি যদি দলিলের মূল্যে ৫০ লাখ টাকা দেখানো হয়, কিন্তু বাস্তবে ৩ কোটি টাকায় হাতবদল হয়, তবে যেকোনো পক্ষই এই ব্যবধানের টাকা ঘোষণা করতে পারবেন। নির্দিষ্ট কর দিয়ে পার পেয়ে যাবেন তারা।
এই প্রস্তাবের মূল আকর্ষণ হলো সম্পূর্ণ আইনি সুরক্ষা। খসড়া বিল অনুযায়ী, অপ্রদর্শিত অর্থ ঘোষণা ও কর দেওয়ার পর এর উৎস নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা বা আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে না। এটি কেবল অতীতের অনিয়মের ক্ষমা নয়, ভবিষ্যতের সম্পত্তি লেনদেনের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের দাবি, এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের আবাসন বাজারের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা দূর করবে। এখানে সাধারণত প্রকৃত দামের চেয়ে অনেক কম মূল্যে সম্পত্তি নিবন্ধন করা হয়।
কর্মকর্তারা মনে করেন, আড়ালে থাকা এসব লেনদেন প্রকাশ্যে এলে কর কমপ্লায়েন্স বাড়বে ও করের আওতা বড় হবে। তবে কর বিশেষজ্ঞরা এই যুক্তি মানছেন না। তারা সতর্ক করেছেন, অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলার পথ বন্ধ করা মানেই পেছনের দরজা দিয়ে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দেওয়া।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো একটি আইনি ফাঁকফোকর। অর্থবিল রাজস্ব কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করা থেকে বিরত রাখলেও দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও আর্থিক অপরাধ তদন্তকারী অন্য সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে এই সুরক্ষা প্রযোজ্য কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এই সুরক্ষার প্রকৃত পরিধি ঠিক কতটুকু, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে এই অস্পষ্টতাই শেষ পর্যন্ত মূল ধারার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


