সিলেটের ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ঘটা বিস্ফোরণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে কানাডীয় কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেসকে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিএসআইডি)।
প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে যার মূল্যমান দাঁড়ায় ৫১৬ কোটি টাকা।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান রায়ের বিষয়টি টাইমস অব বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আইনজীবীর কাছ থেকে বুধবারই আমরা রায়ের সারসংক্ষেপ পেয়েছি। পরবর্তী আইনি দিকগুলো আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি।’
ওই গ্যাসক্ষেত্রের প্রায় ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে যাওয়ার জন্য নাইকোকে ৪ কোটি মার্কিন ডলার এবং গ্যাসক্ষেত্র ও আশপাশের এলাকার পরিবেশগত ক্ষতির জন্য আরও ২০ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হবে।
গ্যাসক্ষেত্র এবং এর আশপাশের সম্পদ ও গ্যাস মজুদের ক্ষতির কারণে ‘হেড অব লস’ বা ক্ষতির খাত চিহ্নিত করার শুনানিতে পেট্রোবাংলা এই অর্থ দাবি করেছিল।
২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি রাতে টেংরাটিলার গ্যাসফিল্ডের প্রোডাকশন কুপের রিগ ভেঙে বিস্ফোরণ ঘটে। আগুনের শিখা ২০০ থেকে ৩০০ ফুট পর্যন্ত ওঠানামা করছিল।
এক মাসেরও বেশি সময় ধরে জ্বলে আগুন।
ওই বছরেরই ২৩ জুন রাতে গ্যাসক্ষেত্রে দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কূপ এলাকার তিন কিলোমিটার দূরেও ভূকম্পন অনুভূত হয়।
দুই দফা আগুনে পুড়ে গ্যাসফিল্ডের অন্তত ৫২ বিলিয়ন কিউসেক রিজার্ভ গ্যাস নষ্ট হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় টেংরাটিলা, আজবপুর, গিরিশনগর, কৈয়াজুড়ি, টেংরাবাজার এবং শান্তিপুরের মানুষের ঘরবাড়ি, গাছ, বন ও হাওরের ফসলি জমি।


