রাজধানীর মিরপুরে আগুনে দগ্ধ হওয়ার দীর্ঘ ১১ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন পোশাকশ্রমিক অন্তঃসত্ত্বা শিফা আক্তার (১৮)। তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা শিফার শরীরের ৬৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল।
রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শিফা আক্তার কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থানার নোয়াগাঁও গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে। চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।
শিফার বাবা জাহাঙ্গীর আলম জানান, আট মাস আগে একই উপজেলার পাশের লাউরা পশ্চিমপাড়া গ্রামের সোহেলের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা মিরপুর-২ নম্বরের বড়বাগ এলাকার আজমত গার্মেন্টসের পাশে বাসা ভাড়া নেন এবং দুজনেই ওই গার্মেন্টসে চাকরি শুরু করেন।
শিফার বাবাও মিরপুর এলাকাতেই থাকেন। গত ২৪ জুন মধ্যরাতে এলাকার কয়েকজন তার বাসায় গিয়ে খবর দেন যে, তার মেয়ে আগুনে পুড়ে গেছে এবং তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে তিনি দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। তখন দগ্ধ মেয়ের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, যৌতুকের টাকার জন্য স্বামী সোহেল নিজে ও আরও ৪-৫ জন মিলে শিফার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে গেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের সময় সোহেলকে যৌতুক হিসেবে কিছু টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও অভাবের কারণে তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেই টাকার জন্য সোহেল ও তার বাবা-মা শিফাকে নানাভাবে চাপ দিত এবং সোহেল প্রায়ই তাকে মারধর করত। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শিফা গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। পরে সোহেলও ঢাকায় এসে একই গার্মেন্টসে চাকরি শুরু করেন।
তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা শিফাকে এক মাস আগেও সোহেল প্রচণ্ড মারধর করেন এবং জোর করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতে চান। বাড়িতে না গেলে তাকে গাড়ির নিচে ফেলে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। এই ভয়ে ঘটনার ১৫ দিন আগে শিফা চাকরি ছেড়ে দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ জুন রাতে শিফার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুন জ্বলতে দেখে পাশের একটি ভবনের নির্মাণশ্রমিকরা ছুটে এসে আগুন নেভান এবং তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিফার কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে তারা তার বাবাকে খবর দেন। হাসপাতালে ১১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়লেও স্বামী সোহেল বা তার পরিবারের কেউ শিফাকে দেখতে আসেননি। ঘটনার পর থেকেই তারা সবাই গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. ফারুক জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি মিরপুর মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করছে।


