পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকরা কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করেছেন তারা।
সোমবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রেখে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষকরা। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছেন একাধিক শিক্ষক। শিক্ষকদের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা।
সোমবার সকাল থেকেই দাবি আদায়ে প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান নেয় শিক্ষকরা। পরে তারা বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে রাখার অনুরোধ জানান। এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার কার্যালয়সহ সব প্রশাসনিক দপ্তরে তালা দিয়ে দেয়।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলেন, পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানে দাবি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু গত শনিবার সিন্ডিকেট সভা হলেও কোন সমাধান মেলেনি।
এর প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষকেরা সভা করে শাটডাউনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং প্রশাসনিক কাজ থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হয়।
এর আগে গত ২১ এপ্রিল থেকে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে এ আন্দোলন শুরু হয়। প্রথমে কর্মবিরতি, শাটডাউন এবং সর্বশেষ ২৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন শিক্ষকেরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয় অচল হয়ে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, সিন্ডিকেটের সভা ইতিবাচক হয়েছে। তারপরও তারা আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।
শিক্ষকদের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসার আহবান জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষকদের ক্লাস ও পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান উপাচার্য।


