রাজধানী ঢাকার রামপুরা বনশ্রী এলাকায় মাদ্রাসার বাথরুম থেকে শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মো. শিহাব (১৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি একই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
বুধবার বিকাল ৬টার দিকে পাবনার বেড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিহাব বেড়া উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের খাকছাড়া গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে। তিনি বনশ্রী সি ব্লকের তিন নম্বর রোডে আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
ধারণা করা হচ্ছে, অভিযুক্ত যুবক শিশু আব্দুল্লাহকে বলাৎকারের পর আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ায় সে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। তার বিরুদ্ধে আগেও একই মাদ্রাসার চার শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বেড়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মন্তাজ আলি জানান, রামপুরা থানার এসআই একরামুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বুধবার বিকালে বেড়া উপজেলায় অভিযানে আসে। অভিযুক্ত শিহাব মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে টাঙ্গাইলে ছিলেন। পরে তার বাবার সাহায্য নিয়ে শিহাবকে বেড়ায় ডেকে আনা হয়। বিকাল ৬টার দিকে বেড়া সিএনবি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসে পৌঁছার পর রামপুরা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। অভিযানে বেড়া থানা পুলিশ তাদের সহযোগিতা করে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রামপুরা থানার এসআই একরামুল হক বলেন, ‘এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বাদি হয়ে শিহাবকে অভিযুক্ত করে বুধবার থানায় একটি মামলা করেছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে শিহাবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আব্দুল্লাহকে বলাৎকারের পর সে ক্ষোভ ও অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। শিহাবের বিরুদ্ধে একই ধরনের আরও অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বনশ্রী সি ব্লকের তিন নম্বর রোডে আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার তৃতীয় তলার বাথরুম থেকে মো. আব্দুল্লাহ (১০) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ সময় তার গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। প্রাথমিক সুরতহালে শিশুটির পায়ুপথে জখমের চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মৃত আব্দুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার অনুপনগর গ্রামেরআবুল কালাম আজাদের ছেলে।
মাদ্রাসাটির প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মাদ্রাসাটির প্রথম শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ। সে মাদ্রাসায় আবাসিকে থেকে হেফজ বিভাগে পড়াশোনা করত। মঙ্গলবার মাগরিবের পর সে বাথরুমে যায়। অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও বাথরুম থেকে বের না হওয়ায় তাদের সন্দেহ হলে শিক্ষকরা মিলে বাথরুমের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখেন, গামছা দিয়ে শিশুটি গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তারা ট্রিপল নাইনের মাধ্যমে থানায় খবর দেন। পরবর্তীতে থানা থেকে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
আব্দুল্লাহকে বলাৎকারের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘মাদ্রাসায় আমিসহ পাঁচজন শিক্ষক, দুইজন স্টাফ এবং ৫৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে কেউই তেমন কিছুই বলতে পারেনি। এদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী শিহাব নামে আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কিছু কথা জানিয়েছে। যেগুলো সন্দেহজনক। তবে ওই শিক্ষার্থী ঘটনার দিন বিকেলেই ছুটি নিয়ে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে গেছে।’


