বছরের শেষ সূর্যকে বিদায় জানাতে কক্সবাজার সৈকতে মানুষের ঢল

বছরের শেষ সূর্যকে বিদায় জানাতে কক্সবাজার সৈকতে মানুষের ঢল
কক্সবাজার সৈকতে বছরের শেষ সূর্যাস্ত। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

পশ্চিম আকাশে হেলে পড়া লাল সূর্য, তার আলোয় রঙিন হয়ে ওঠা সাগর আর বালুচরে উপচে পড়া মানুষের ঢল; এভাবেই কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বিদায় দেওয়া হলো ২০২৫ সালের শেষ সূর্যকে।

বুধবার বিকেলে কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট, কলাতলী, লাবণী ও সি-গাল পয়েন্টজুড়ে দেখা যায় পর্যটকদের ব্যাপক ভিড়। কেউ বালুচরে বসানো চেয়ারে বসে সূর্যাস্ত উপভোগ করছেন, কেউ আবার ডুবে যাওয়া সূর্যকে পেছনে রেখে ছবি তুলতে ব্যস্ত।

ভাটার কারণে সাগরের পানি নেমে গিয়ে বিস্তীর্ণ বালুচর তৈরি হওয়ায় সৈকতে পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো ছিল।

বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে সূর্য ডুবে গেলে অনেক পর্যটক হইহুল্লোড় শুরু করেন। কেউ হাত তুলে সূর্যকে বিদায় জানান, আবার কাউকে উচ্চস্বরে বলতে শোনা যায়—‘বিদায় ২০২৫’।

ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে আসা স্কুল শিক্ষক মোনালিসা (৩০) বলেন, ‘কক্সবাজারের মূল আকর্ষণ সূর্যাস্ত। বছরের শেষ দিনে ডুবে যাওয়া সূর্যের লাল আভায় সাগরটা অন্যরকম লাগে। এই দৃশ্য সত্যিই উপভোগ্য।’

শোকের আবহে বাতিল থার্টি ফার্স্ট নাইটের আয়োজন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক পালনের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের তারকা মানের হোটেলগুলো থার্টি ফার্স্ট নাইটের সব আয়োজন বাতিল করেছে।

আরও পড়ুন

সরকারিভাবে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্যে কোথাও বছরের শেষ দিনকে বিদায় জানাতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়নি।

ঢাকার মালিবাগ থেকে আসা পর্যটক ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘পরিবার নিয়ে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদ্‌যাপনের আশায় কক্সবাজারে এসেছিলাম। এসে জানতে পারি, সৈকত কিংবা হোটেলে কোনো উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক আয়োজন নেই—এতে কিছুটা হতাশ হয়েছি।’

কক্সবাজার সৈকতে মানুষের ঢল। ছবি: টাইমস

কঠোর নিরাপত্তা ও নিষেধাজ্ঞা

কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস জানান, থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে সমুদ্রসৈকত ও শহর এলাকায় আতশবাজি, পটকা ও ফানুস ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আতশবাজি ও পটকা বিক্রি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে এবং উন্মুক্ত স্থানে কনসার্ট, নাচ বা গানের অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলার সব বার ও মদের দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো, জয় রাইড, বেপরোয়া গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নারী পর্যটকদের ইভটিজিং বা হয়রানি রোধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

হোটেলে ৯০ শতাংশ কক্ষ ভরা

হোটেলমালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার অন্তত দেড় লক্ষাধিক পর্যটক সৈকতে বছরের শেষ সূর্যাস্ত উপভোগ করেছেন। বর্তমানে কক্সবাজার শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, গেস্টহাউজ ও কটেজের প্রায় ৯০ শতাংশ কক্ষ পর্যটকে পূর্ণ।

এই হোটেলগুলোর দৈনিক ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার।

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২৫ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাত দিনে অন্তত সাড়ে আট লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম বলেন, ‘সৈকতের কোথাও উন্মুক্ত কনসার্ট বা আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও হয়রানি রোধে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ করছে। অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad