বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নতুন ঘোষিত মোকামতলা উপজেলার বিতর্কিত তিন ইউনিয়ন মীরবাড়ি, সীমান্ত ও দিগন্ত এর নাম পরিবর্তন নিয়ে মঙ্গলবার গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পৃথক তিনটি স্থানে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়।
মোকামতলা উপজেলার জগন্নাথপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে ‘সীমান্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের পক্ষে দুটি বিকল্প নাম প্রস্তাব করা হয়। এগুলো হলো জগন্নাথপুর ইউনিয়ন ও অভিরামপুর ইউনিয়ন। উপস্থিত অনেকে গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে এসব নামের প্রতি সমর্থন জানান।
আলাদা করে ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা হয়। এ ইউনিয়নের জন্য রহবল ইউনিয়ন ও পাকুরতলা ইউনিয়ন নামের দাবি ওঠে। তবে গণশুনানিতে অংশ নিতে না পারার অভিযোগ তুলে রহবল এলাকার কিছু বাসিন্দা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রংপুর মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন। তারা ‘রহবল ইউনিয়ন’ নামের দাবি জানান। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তারা জানান, রহবল এলাকার দাবিগুলো পৃথকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
অন্যদিকে বেতগাড়িতে অনুষ্ঠিত মীরবাড়ি ইউনিয়নের গণশুনানিতে সাতটি নাম প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবিত নামগুলো হলো- বেতগাড়ি, আলীয়ারহাট, রামকান্দি, মালগাড়ি, গোপীনাথপুর, হরিপুর ও গোরনা।
মীরবাড়ি ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, গণশুনানিতে পাওয়া সাতটি নাম যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিবেদন আকারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। পরে তা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে।
গত ১১ জুন শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি এবং নতুন ঘোষিত মোকামতলা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রশাসনিক সীমানা পুনর্গঠন করা হয়। এরপর ১৪ জুন নতুন ইউনিয়নগুলোর নামসহ গেজেট প্রকাশিত হলে নামকরণ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পারিবারিক উপাধি এবং তার দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল রেখে তিনটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলায় ‘মীরবাড়ি’ এবং মোকামতলা উপজেলায় ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নামে দুটি ইউনিয়ন গঠন করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হলে সরকারের উচ্চপর্যায়ে তা গুরুত্ব পায়। পরে ইউনিয়ন তিনটির নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং স্থানীয় জনগণের মতামত জানতে গণশুনানির আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, গণশুনানিতে স্থানীয়দের দেওয়া যৌক্তিক প্রস্তাব ও মতামতের ভিত্তিতে ইউনিয়নগুলোর নতুন নাম চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।


