রাজনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেবাস্তিয়ান ল্যুকর্নুকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
গত সোমবার দেশটির পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে ভরাডুবিতে পদচ্যুত হন প্রধানমন্ত্রী ফ্রাসোয়াঁ বায়রু। এ দিনই প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
মাত্র নয় মাস দায়িত্বে থাকার পর বাজেট ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থতাই তার পদচ্যুতির কারণ। বায়রু সংসদ সদস্যদের (এমপি) সতর্ক করে বলেছিলেন, তাকে অপসারণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না।
‘আপনাদের ক্ষমতা আছে সরকার ফেলে দেওয়ার, কিন্তু বাস্তবতাকে মুছে দেওয়ার ক্ষমতা নেই। ব্যয় বাড়তেই থাকবে, ঋণের বোঝা আরও ভারী ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে’, বলেন তিনি।
সিএনএনের খবরেও নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে অর্থনৈতিক অচলাবস্থাকে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, অর্থনৈতিক মন্দায় জর্জরিত ফ্রান্সকে ফের সতেজ করতে পার্লামেন্টে রাজনৈতিক বিভক্তির মধ্যে সমঝোতা খুঁজে পাওয়া এবং সাশ্রয়ী বাজেট পাশ করানোই হবে ল্যুকর্নুর মূল চ্যালেঞ্জ।

সেইসঙ্গে নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে রয়েছে রাজনৈতিক বিক্ষোভের মতো সংকটও। বায়রুর পদত্যাগে বুধবার দেশব্যাপী মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ ডেকেছে তার সমর্থকরা। আর আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বৃহত্তম ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে শ্রমিক ইউনিয়ন।
এদিকে দেশটির প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এলিসি প্রাসাদ এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে বাজেট পাশ করতে প্রধানমন্ত্রী ল্যুকর্নুকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আশাবাদী, ল্যুকুর্ন শিগগিরই নিজের নেতৃত্বের সক্ষমতা প্রমাণ করবেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নিজ দলের একজনকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে ম্যাক্রোঁ হয়তো বাস্তবতা মানতে অস্বীকার করছেন। তবে বার বার প্রধানমন্ত্রীর আস্থা হারানোই প্রমাণ করছে তিনি ভুল পথে হাঁটছেন। এতে দেশ যে কেবল রাজনৈতিক অস্থিরতার সম্মুখীন হবে তাই নয়, ইউরোপের যুদ্ধাবস্থায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রকের স্থান হারাবে ফ্রান্স।
সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, আগাম নির্বাচন হলে চরম ডানপন্থী দল ফ্রান্সের পার্লামেন্টে সর্বাধিক আসন পাবে। এরপর থাকবেন বামপন্থীরা এবং মধ্যপন্থী ম্যাক্রোঁর দল থাকবে সবার পেছনে।
জরিপে আরও দেখা যায়, রাজনৈতিক শ্রেণির প্রতি জনআস্থা তলানিতে ঠেকেছে। প্যারিসভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট মন্তে ইনের বিশ্লেষক ডমিনিক মোইসি বলেন, ‘ফ্রান্স ক্ষুব্ধ, ক্ষিপ্ত। মনে হচ্ছে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী, অথচ কীভাবে বা কার নেতৃত্বে তা হবে—কেউ জানে না। আমরা এমন এক পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়েছি, যেখানে পুরনো ব্যবস্থা আর কাজ করছে না, নতুন ব্যবস্থা কেমন হবে সেটাও কেউ কল্পনা করতে পারছে না।’


