মিয়ানমারের জলসীমায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি বাংলাদেশি মাছ ধরার ট্রলারসহ সাতজন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী বোট মালিক সমিতির সভাপতি সাজেদ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাওনের মালিকানাধীন একটি ট্রলার সাগরে মাছ শিকার শেষে ঘাটে ফেরার পথে মিয়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়। ট্রলারটিতে সাতজন জেলে ছিলেন।
মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক জানায়, গত ২৮ অক্টোবর আরাকান আর্মির উপকূলীয় নিরাপত্তা ইউনিট সমুদ্রপথে টহল জোরদার করে। টহল চলাকালে আরাকান রাজ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ ধরতে থাকা বাংলাদেশি ট্রলারগুলো শনাক্ত করা হয়।
এদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ মংডু টাউনশিপের একরাজা গ্রাম উপকূল থেকে প্রায় ২ দশমিক ১৪ কিলোমিটার পশ্চিমে একটি কাঠের মাছ ধরার ট্রলারসহ ওই সাতজন জেলেকে আটক করা হয়।
এ সময় ট্রলার থেকে তিনটি মাছ ধরার জাল ও প্রায় ২৬০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ জব্দ হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত আরাকান আর্মি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ১৮৮ জন বাংলাদেশি জেলে ও ৩০টি নৌকা ফেরত দিয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘ সাত জেলে ও একটি নৌকা ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে।’
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানায়, গত আট মাসে নাফ নদী ও সংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চল থেকে অন্তত ৩১১ জেলেকে অপহরণ করেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২০০ জেলেকে বিজিবির সহায়তায় ফেরত আনা হয়েছে। এখনো প্রায় ১১১ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগে, গত ২৭ অক্টোবর নাফ নদী থেকে আরো চার জেলেকে একটি মাছ ধরার ট্রলারসহ ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি।
স্থানীয় জেলেরা জানান, নাফ নদীতে নিয়মিত টহল না থাকায় তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।


