ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় সেবু প্রদেশে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১০টার (১৪:০০ জিএমটি) ঠিক আগের আকস্মিক এই ভূমিকম্পে বহু বাড়িঘর ও বিভিন্ন অবকাঠামো ধসে চাপা পড়েন অনেক মানুষ।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল সেন্ট্রাল সেবুর বোগো শহর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। ভূমি থেকে কেবল পাঁচ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি সাময়িকভাবে উপকূলে সুনামি সতর্কতা জারি করলেও পরে তা তুলে নেওয়া হয়।
স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা রেক্স ইগট জানান, প্রায় ৯০ হাজার জনসংখ্যার উপকূলীয় এই শহরেই অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ভূমিকম্পের কারণে গোটা শহর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি। রেক্স ইগট বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি পাহাড় ঘেরা। ভূমিকম্পের পাশাপাশি ভূমিধস ও পাথরগড়িয়ে পড়ার কারণে উদ্ধারকাজে সমস্যা হচ্ছে।’

সেবু গভর্নর পামেলা বারিকুয়াত্রো বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র সকাল না হওয়া পর্যন্ত বুঝতে পারছি না। এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে থাকতে পারে। বাস্তব চিত্র এবং হতাহতের সংখ্যা আরও ভয়াবহ হতে পারে।’
সেবুর ফায়ার কর্মীরা জানান, স্থানীয়রা এখনও ঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। অনেকেই খোলা মাঠে রাত কাটাচ্ছেন। সান রেমিজিও শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে।
সেবু ছাড়াও মেদেলিন শহরে বাড়ির দেওয়াল ও ছাদ ধসে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। তারা সবাই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন বলে ভূমিকম্পের সময় সরে যাওয়ার সুযোগ পাননি বলে মনে করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
সান রেমিজিও শহরে বাস্কেটবল খেলা চলাকালীন ভূমিকম্পের আতঙ্কে পালানোর চেষ্টা করলে দেয়াল চাপা পড়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে তিনজন কোস্টগার্ড সদস্য, একজন অগ্নিনির্বাপক কর্মী ও এক শিশু ছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি।
এর আগে গত শুক্রবারে সেবু ও আশপাশের প্রদেশগুলোতে সুপার টাইফুন ‘রাগাসা’ আঘাত হানে। ভয়াবহ ওই ঘূর্ণিঝড়ে অন্তত ২৭ জনের প্রাণহানি ঘটে।


