জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালন করেছেন। অবস্থান কর্মসূচিতে ছয় দফা দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচিতে ব্যবহৃত পোস্টার ও ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের ছবি ছিল। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
কর্মসূচি থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সারা দেশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা বাতিল, কোটা আন্দোলনের নামে দলীয় নিয়োগ বন্ধ, ছাত্রলীগের ‘রাজবন্দিদের’ শ্যোন অ্যারেস্ট বন্ধ করে নিঃশর্ত মুক্তি, নারী ও শিশু হত্যা, ধর্ষণ, মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন এবং অনলাইনে নারী হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে শিক্ষকদের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং হামের টিকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ফাঁসির দাবিও জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান।
কর্মসূচি শেষে আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ বলেন, ‘ঐতিহাসিক ছয় দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। সেই চেতনাকে ধারণ করেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ছয় দফা মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্বাধীনতার পক্ষের শিক্ষকরা হামলা-মামলার শিকার হয়ে শিক্ষা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’
তিনি দাবি করেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো ‘মিথ্যা’ এবং সেগুলো প্রত্যাহার করা উচিত। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন, অনলাইন হয়রানি এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজি বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে নেই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ যে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছে, সেগুলো যৌক্তিক। বর্তমান সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজপথে থাকবে এবং আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।’
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আজকের ঘটনার বিষয়ে আমি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নই। তবে এর আগেও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতায় এ ধরনের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকেও অবহিত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা দেখা যাচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা গেলে এবং গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপরও দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনটির ব্যানারে বিচ্ছিন্নভাবে কর্মসূচি পালনের ঘটনা সামনে এসেছে।


