ফরিদপুরের সদর উপজেলায় তিনজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১০ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামি আকাশ মোল্লাকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালও উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
নিহতরা হলেন- আকাশ মোল্লার দাদি আমিনা বেগম (৮০), ফুপু রাহেলা বেগম (৫৫) ও প্রতিবেশী কাবুল হোসেন (৪৯)।
পুলিশ সুপার নজরুল বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিবার তাকে বিয়ে না দেওয়া এবং দীর্ঘদিনের মানসিক হতাশা থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন আকাশ। তবে তার মানসিক অবস্থা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার আসামি জিজ্ঞাসাবাদে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন। স্থানীয়দের কাছ থেকেও জানা গেছে কিছুদিন ধরে তার আচরণ অস্বাভাবিক ছিল। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, কাবুল হোসেন সোমবার আনুমানিক রাত ৯টার দিকে গদাধরডাঙ্গী গ্রামের হারুন মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছালে ভেতর থেকে চিৎকার শুনতে পান। স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলে তারা দেখতে পান, আকাশ মোল্লা তার দাদি ও ফুপুকে কোদাল দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করছেন। এ সময় কাবুল হোসেন চিৎকার করলে আকাশ তার ওপরও হামলা চালান। ঘটনাস্থলেই কাবুল হোসেন, আমিনা বেগম ও রাহেলা বেগম গুরুতর জখম হয়ে মারা যান।
এ ছাড়া হামলায় রিয়াজুল মোল্লা (৩৬) ও আর্জিনা বেগম (৪৫) নামে দুজন গুরুতর আহত হন। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পরপরই আকাশ পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় নিহত কাবুল হোসেনের স্ত্রী কোহিনুর বেগম কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ সুপার নজরুল জানান, মঙ্গলবার ভোরে কোতয়ালী থানা পুলিশ, ডিবি ও র্যাবের যৌথ অভিযানে আকাশকে বাড়ির পাশের একটি কলাবাগান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় হত্যায় ব্যবহৃত কোদাল উদ্ধার করা হয়েছে, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


