নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ একই পরিবারের সদস্যদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
রোববার দুপুরে তিনি ইনস্টিটিউটে গিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সান্ত্বনা দেন।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। আমরা জানতে পেরেছি, ঘরের দরজা-জানালা সব বন্ধ ছিল। গৃহকর্তা যখনই ম্যাচের কাঠি বা লাইটার দিয়ে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করেছেন, তখনই পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে পরিবারের সবাই গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন এবং তাদের সবারই শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
দগ্ধদের চিকিৎসার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে রোগীদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। যদি কোনো পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতার অভাবকে দায়ী করে তিনি বলেন, বারবার প্রচার করা সত্ত্বেও মানুষ অসতর্ক থাকছে। যারা সিলিন্ডার ব্যবহার করেন, তাদের উচিত সেটি ঘরের বাইরে রাখা এবং নিয়মিত লিকেজ পরীক্ষা করা।
অন্যদিকে, যারা সরকারি লাইনের গ্যাস ব্যবহার করেন, তাদেরও সংযোগস্থল নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং চুলা জ্বালানোর আগে অবশ্যই ঘরের দরজা-জানালা খুলে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা উচিত, যোগ করেন তিনি।
অগ্নি দুর্ঘটনা রোধে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে খুব দ্রুতই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আয়োজন করা হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনা পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হলেও, সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত সতর্কতা ছাড়া বাসা-বাড়ির ভেতরে আগুন লাগা বন্ধ করার কোনো সরাসরি উপায় হাতে নেই। তাই জীবন রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


