চট্টগ্রাম নগরীতে প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় রিয়া আক্তার রিতা (২০) নামের এক তরুণীকে পাঁচতলা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যার অভিযোগে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার ফেনী জেলার সোনাগাজী মডেল থানার বাদামতলী এলাকা থেকে অভিযুক্ত আবদুর রহমান শেখকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত রিয়া আক্তার রিতা নগরীর পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা এবং সিডিএ মার্কেট এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
গ্রেপ্তার হওয়া আবদুর রহমানের বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ভাতখালী এলাকায়। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানার ফয়েজ লেক এলাকার আব্দুল হামিদ সড়কে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, একই পোশাক কারখানায় চাকরি করার সুবাদে রিয়ার সঙ্গে আবদুর রহমানের পরিচয় হয়েছিল। প্রায় তিন থেকে চার মাস আগে কারখানায় একটি মারামারির ঘটনায় আবদুর রহমানের চাকরি চলে যায়। চাকরিচ্যুত হওয়ার পরও তিনি রিয়াকে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন।
খুলশী থানা-পুলিশ জানিয়েছে, গত শনিবার রাতে কারখানা ছুটির পর কৌশলে রিয়াকে ফয়েজ লেক এলাকায় নিয়ে যান আবদুর রহমান। পরে জরুরি কথা বলার অজুহাতে তাকে ইউএসটিসি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভবনের উত্তর পাশের গ্রিলবিহীন সিঁড়ির পাঁচতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুইজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে রিয়াকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত রিয়ার মা মোছা. জমিলা বেগম (৫১) বাদী হয়ে খুলশী থানায় আবদুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে নামে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামিকে ফেনী থেকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।’
এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।


