প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বর্তমান প্রক্রিয়া সরকার পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এএনএম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ২০২৭ সালের ভর্তি ব্যবস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সরকার আলোচনা করবে এবং সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেবে।
মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে কুমিল্লার সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর একটি পরিপূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, মূলত শহরাঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তি চাপ বেশি, বিশেষ করে ঢাকায়। গ্রামীণ এলাকার স্কুলে এমন চাপ কম থাকে কারণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।
শহরের স্কুলগুলিতে ভর্তি চাপ কমাতে আগে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। তবে এহসানুল হক মিলন ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, এটি খুব যুক্তিসঙ্গত প্রক্রিয়া নয়।
তিনি বলেন, ‘২০২৭ সালের জানুয়ারির জন্য ভর্তি ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার অভিভাবকসহ সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে সেমিনার ও আলোচনা আয়োজন করবে, যাতে জনমত গঠিত হয়।’
পরিপূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, ‘যোগ্যতার ভিত্তিতে ভর্তি থেকে লটারি পদ্ধতিতে পরিবর্তন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মানহানি ঘটাচ্ছে। এতে ভালো মানের বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীর মান প্রভাবিত হচ্ছে।’
‘দেশে বর্তমানে বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম এবং মাদ্রাসা শিক্ষা-তিনটি সমান্তরাল শিক্ষাপ্রবাহ রয়েছে’ মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের বিপরীতে হাসনাত প্রশ্ন তোলেন, ‘এই তিনটি প্রবাহের মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা কিভাবে নিশ্চিত করা যাবে, কারণ এটি পরিবারগুলোর আর্থিক বৈষম্যও প্রতিফলিত করে।’
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী স্বীকার করেন, এই তিনটি শিক্ষাপ্রবাহ একত্রিত করা জটিল প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, ‘সরকার এরইমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে যা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোকে জাতীয় নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় আনার কাজ করছে।’
সেইসঙ্গে ইবতেদায়ী (প্রাথমিক মাদ্রাসা) ব্যবস্থা সংস্কারের কাজও শুরু হয়েছে এবং কওমি শিক্ষাপ্রবাহকে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।
এহসানুল মিলন বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রবাহকে ধাপে ধাপে সমন্বয় করার উদ্যোগ নিচ্ছি, যাতে ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও একীভূত ও সুসংহত হয়ে ওঠে।’


