এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র বিতরণে কোনো ভুল বা কোড বিভ্রাট ঘটলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘প্রশ্ন বিতরণে কোনো ভুল হলে ‘সরি’ বা দুঃখ প্রকাশ করে পার পাওয়া যাবে না। যার ভুল, তাকেই কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’
বুধবার সকালে ঢাকার আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে চার শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে আগামী বছর থেকে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সব আবশ্যিক ও সাধারণ বিষয়ের পরীক্ষা একই দিনে এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্রে নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘একটি রাষ্ট্র, একটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং একই সিলেবাস থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন বোর্ডে আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডকে এক সুতায় বেঁধে একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের ক্ষেত্রেও বাংলা, ইংরেজির মতো সাধারণ বিষয়গুলোর পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।’
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আগের সরকারের আমলে কোনো নিয়ম না মেনে প্রতি তিন কিলোমিটারের মধ্যে অপরিকল্পিতভাবে স্কুল ও মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়েছে। ২৩ থেকে ২৬ শতক জমির ওপর ভবন নির্মাণ করে নিবন্ধনহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে শিক্ষকদের যোগ্যতার যথাযথ যাচাই করা হয়নি।
তিনি জানান, ইবতেদায়ী ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি নিয়মের আওতায় আনতে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় একক প্রশ্নপত্র চালুর বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিজি প্রেস থেকে নিয়ম মেনে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কোড অনুযায়ী সঠিক প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে হবে।
শিক্ষা খাতে নিয়োগ-সংক্রান্ত জট ও মামলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নয় মাসের পিটিআই প্রশিক্ষণ, পিএসসির ব্যাকলগ কিংবা এনটিআরসিএর শিক্ষক নিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই মামলা করে স্থবিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, ১৫ হাজার শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার পরও মামলা করে নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, একটি গ্রুপ ও একটি অ্যাসোসিয়েশনের কিছু ব্যক্তি এসব মামলার সঙ্গে জড়িত। তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। ‘যারা জাতি গঠনের অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করে, তারা রাষ্ট্রের শত্রু, দেশের শত্রু। এ বিষয়ে মহামান্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সরকারও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) গঠনের পটভূমি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে অতিরিক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যত্রতত্র স্কুল-কলেজ খোলা বন্ধ করতে তিনি এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল চিকিৎসকদের পিএমডিসি বা আইনজীবীদের বার কাউন্সিলের মতো শিক্ষকদের জন্য একটি রাষ্ট্রীয় যোগ্যতা সনদ চালু করা, সরাসরি চাকরি দেওয়া নয়।
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকার এনটিআরসিএর কাঠামো পরিবর্তন করে ফেলায় উত্তীর্ণ অনেক শিক্ষক ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরির জন্য অপেক্ষা করছেন।


