চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেছেন, প্রবীণদের যত্ন ও সেবা শুধুমাত্র পরিবারে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। নবীন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।
এটি প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন সেবার মাধ্যমে আরও বিস্তৃত করা দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রবীণদের যত্ন কীভাবে নিতে হয় এবং কীভাবে সেটিকে অনলাইনে এনে “নবীনের হাতে প্রবীণের নিরাপদ বার্ধক্য” ধারণাটি প্রতিষ্ঠা করা যায়, সেটিই এখন সময়ের দাবি।’
শনিবার চট্টগ্রামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে প্রবীণদের যত্ন: একটি পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি মোবাইল ফোনে অনলাইনে একজন বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলে প্রবীণদের জন্য অনলাইন কাউন্সেলিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেরিয়াট্রিক কেয়ার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী মো. ইসরাফিল।
বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এস এম নসরুল কদির, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নূরী, চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের প্রধান মনোজ কুমার বড়ুয়া, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের সভাপতি সৈয়দ মো. মোরশেদ হোসেন এবং এস এম সারোয়ার আলম।
মেয়র বলেন, ‘প্রবীণদের যত্নের শুরু পরিবার থেকেই হওয়া উচিত। আপনার মা-বাবা কি আপনার কাছে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?’ প্রবীণদের স্বাধীনতা ও সম্মান নিশ্চিত করা গেলে, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ’একটি হাসি, সালাম বা খোঁজখবর নেওয়া—এসব ছোট আচরণও একজন বৃদ্ধ মানুষকে অনেক আনন্দ দেয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের আবেগজনিত চাহিদা বাড়ে; তাই ধৈর্য ও সহমর্মিতাই সবচেয়ে বড় ওষুধ।’
প্রবীণদের সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা, যেমন আর্থ্রাইটিস, হাড় ভঙ্গুরতা ও ডিমেনশিয়া নিয়ে তিনি বলেন, সাপ্লিমেন্টের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি। অনলাইনে ব্যায়াম শেখানো বা ফলো-আপ সেশন আয়োজন করা যেতে পারে।
ডিমেনশিয়া রোগীদের বিরক্ত না হয়ে বুঝিয়ে বলার পরামর্শ দিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘বারবার একই প্রশ্ন করা বা ওষুধ ভুলে যাওয়া আসলে রোগের লক্ষণ। তাই ধৈর্যশীল প্রতিক্রিয়া ও মনোসামাজিক সহায়তা এখানে খুব দরকার।’
প্রযুক্তিনির্ভর জেরিয়াট্রিক সেবা প্রসারে অনলাইন কাউন্সেলিং ও ব্যায়াম শেখানোর গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, ‘ব্যস্ততার মাঝেও এ ধরনের সেবা প্রবীণদের একাকিত্ব কমায় এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।’
তিনি আরও জানান, চট্টগ্রামে একটি আধুনিক মানের ‘ওল্ড এজ হোম’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, বিনোদন, পুনর্বাসন ও অনলাইন সাপোর্টের সমন্বিত ব্যবস্থা থাকবে।
শেষে মেয়র পরিবারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মা-বাবা সন্তানের জন্য জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রার্থনা করেন। তাই তাদের সম্মান, স্বাধীনতা ও ভালোবাসা দেওয়া শুধু সামাজিক নয়, নৈতিক দায়িত্বও।’


