পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে গোপনীয়তা সংক্রান্ত কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
বুধবার নির্বাচন ভবনে প্রবাসী ভোট নিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডন এবং লন্ডনে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আয়োজিত এক অনলাইন মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালটের দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা এবং দ্বিতীয়টি হলো আদালতের আদেশে প্রার্থী তালিকা পরিবর্তিত হলে বিদেশ থেকে প্রাপ্ত ভোট বাতিল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী ডাকযোগে ব্যালট পৌঁছানোর ব্যর্থতার হার প্রায় ২৪ শতাংশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধনের হার মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ভোট সংগ্রহের হার ৩০ শতাংশের নিচে। তবে বাংলাদেশের প্রবাসীরা অন্যদের তুলনায় বেশি আগ্রহী।’
ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদেরও প্রত্যাশা সীমিত রাখতে হবে, তবে আমরা সফল হব।
নিবন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দুটি ধাপে কাজ হবে। প্রথমে ভোটার নিবন্ধন—যারা ইতোমধ্যে এনআইডি কার্ডধারী, তারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছেন। এরপর আউট অব কান্ট্রি ভোটিংয়ের জন্য আলাদা নিবন্ধন করতে হবে। এর জন্য একটি অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে, পোস্টাল ভোট বিডি নামের অ্যাপটি নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে চালু হবে। প্রতিটি অঞ্চলে ৭-১০ দিন সময় দেয়া হবে নিবন্ধনের জন্য, প্রয়োজনে অতিরিক্ত ৩-৭ দিন সময় রাখা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোট বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি জাতির উদ্দেশে ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা তিন দফা বক্তব্যে ঘোষণা করেন। তিনি বলেছিলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চান, শুধু প্রতিশ্রুতি নয় বরং বাস্তবায়ন করবেন এবং এর জন্য একটি কার্যকরী পদ্ধতি প্রয়োজন।’
এরপর থেকেই নির্বাচন কমিশন প্রবাসী বোর্ড নিয়ে কাজ শুরু করে। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা, গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষণা এবং ৪৪টি মিশন অফিস থেকে প্রাপ্ত মতামত-উপাত্ত সংগ্রহের পর কমিশন বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করে, যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, এমআইএসপিসহ গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনায় সম্পৃক্ত করা হয়। কমিশনার জানান, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও প্রবাসী ভোট নিয়ে দুটি প্রস্তাব দিয়েছিল—আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট এবং অনলাইন ভোটিং।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী প্রবাসী ভোটের ছয়টি প্রচলিত পদ্ধতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ইন-পারসন ভোটিং ও পোস্টাল ব্যালট। অনলাইন ভোটিং এখনো সীমিত মাত্রায় প্রচলিত। মাত্র দুটি দেশ সম্পূর্ণভাবে অনলাইন ভোটিং চালু করেছে। প্রক্সি ভোটিং, মোবাইল পোস্টাল ব্যালট ও ফ্যাক্স ভোটিংও কিছু দেশে চালু আছে।’
বাংলাদেশ প্রস্তাব করেছিল পোস্টাল ব্যালট, প্রক্সি ভোটিং এবং অনলাইন ভোটিং—তবে আপাতত অনলাইন ভোটিং সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রক্সি ভোটের তেমন সমর্থন না থাকায় সেটি বাদ দেয়া হয়েছে, যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এবারে ইনশাআল্লাহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন। এবারের ভোটে প্রবাসীদের কোনো চার্জ দিতে হবে না। যদিও প্রতিটি ভোটে সরকারের খরচ হবে প্রায় ৭০০ টাকা।


