টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড পাওয়া কবির হোসেনের পেশাগত পরিচয় নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই বলে সিদ্ধান্তে এসেছে তদন্ত কমিটি।
হাতে আইফোন এবং দামি গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তার যেসব ছবি সামাজিকমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, সেগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বানানো বলেও জানিয়েছে তারা।
বুধবার রাতে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, তাতে বলা হয় হয়, ‘কৃষক স্মার্ট কার্ড নীতিমালা ২০২৫’ অনুযায়ী কবির হোসেন একজন প্রান্তিক কৃষক। সেই হিসেবে তিনি কার্ড পাওয়ার যোগ্য।
ডিসি শরীফা হকও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে লিখিতভাবে এ তথ্যটি জানিয়েছেন।
একই দিন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারটিয়া গ্রামে কবিরের বাড়িতে যান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারাও কবিরের অবস্থা দেখে আসেন।
মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে দেশের ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জীবনমানের উন্নয়নে ‘প্রি-পাইলটিং’ হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে ১৫ জনের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হয়, যাদের একজন কবির।

কবির বলেন, ‘তিনি বর্গা চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এরপরই সামাজিক মাধ্যমে কবিরের অসংখ্য ছবি ছড়িয়ে পড়ে। একটি ছবিতে দেখা যায়, তার হাতে আই ফোন। আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, তিনি একটি গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে। অন্য একটি ছবিতে তাকে দেখা যায় একটি অবকাশ যাপন কেন্দ্রের সামনে।’
সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন উঠতে থাকে, এমন একজন মানুষ কৃষক কার্ড পাওয়ার যোগ্য কি না। এরপরই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
বৃহস্পতিবার কবিরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি টিনের ঘরে বসবাস করেন তিনি। বাড়ির সামনে সবজি চাষ এবং পেছনে গরু ও হাঁস-মুরগি পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
তার নিজস্ব জমি রয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ, পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করে আসছেন। তবে মাঝে কয়েক বছর দেশের বাইরে গিয়েছিলেন শ্রমিক হিসেবে।
১৯৯২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করার পর জীবিকার সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমান। সেখানে সফল না হয়ে দেশে ফিরে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করেন। বর্তমানে তার একটি সেচ মেশিন রয়েছে, যা দিয়ে তিনি নিজে এবং আশপাশের জমিতে সেচ সুবিধা দিয়ে থাকেন।
ফেসবুক পেইজে ছবি ও ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।

কবিরের স্ত্রী সেলিনা আক্তার টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমার স্বামী একজন প্রকৃত কৃষক। আমার শ্বশুরের রেখে যাওয়া অল্প জমি এবং অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করে আমার স্বামী। কৃষিকাজের পাশাপাশি ফেসবুকে কনটেন্ট বানিয়ে কিছু অতিরিক্ত আয় করে। তার কিছু এআই ছবি পোস্ট করার কারণে এখন অনেকে ভুল বুঝছে।’
কবির বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। আমার কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি নেই। আমাকে নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে অনেকে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়াচ্ছে।’
টাঙ্গাইল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, ‘জেলা প্রশাসক কর্তৃক তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, “কৃষক স্মার্ট কার্ড নীতিমালা ২০২৫” অনুযায়ী কবির হোসেন একজন প্রান্তিক কৃষক হিসেবে কার্ড পাওয়ার যোগ্য।’


