প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে কোটি কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ট্রান্সফর্মিং হায়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে কোটি কোটি পরিবারের ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। মানুষ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষমতায়িত হবে।’
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু সার্টিফিকেট দেওয়া নয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুনাগরিকের গুণাবলি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মেধা, মনন, সৃজনশীলতা, মূল্যবোধ ও নীতিবোধ ধারণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
‘প্রান্তিক এলাকার কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোর জন্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি, সেচ, সার, বীজ, তেলসহ কৃষিকাজ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।’
এ ছাড়া কৃষি বিমা, কৃষিঋণ ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষা খাত নিয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল কারিকুলাম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বেকারত্ব প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, চিনি কল, পাটকল ও সংশ্লিষ্ট শিল্পকারখানা চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পরিবারভিত্তিক কার্ডের মাধ্যমে নারীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।
প্রবাসী আয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ সহজ করা হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলব্যাগ, জুতা, স্কুল ড্রেস ও মিড-ডে মিল কর্মসূচির বিষয়েও বক্তব্য দেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তি ও পুষ্টি নিশ্চিত করা হবে।
ভবিষ্যৎ শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিদেশি ভাষা শিক্ষা, স্কাউট, গার্লস গাইড ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য নীতিগত সহায়তা, পেপালের মাধ্যমে অর্থপ্রাপ্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিল্পখাতের সমন্বয়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিক কোলাবোরেশন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারিকুলামের সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক শিক্ষার সমন্বয় করার কথাও বলেন তিনি।
প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র চালুর আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি এবং ভোকেশনাল শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।


