‘ইতিহাসে কোনো স্বৈরশাসক জনগণের শক্তির সামনে টিকে থাকতে পারেনি। ইসরায়েলও পারবে না,’ –গাজামুখী ‘কনসায়েন্স’ জাহাজ থেকে এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম।
বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী বহনকারী জাহাজটি গাজামুখী ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’কে অনুসরণ করছে। তবে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ এরই মধ্য দফায় দফায় ইসরায়েলের বাধার শিকার হয়েছে। এরই প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সময় শনিবার বিকালে এক ফেসবুক পোস্টে শহিদুল ওই কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব নেতাদের নিষ্ক্রিয়তা ও ভণ্ডামির মধ্যে গাজার অবরোধ ভাঙতে সাধারণ মানুষ নিজেরাই পথে নেমেছেন। “হাজার ম্যাডলিন” নামে পরিচিত এই নৌযাত্রা বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক বহর হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিচ্ছে। প্রতীকীভাবে “হাজার জাহাজের বহর” বলা হলেও, বাস্তবে এটি সমুদ্রপথে একসঙ্গে যাত্রা করা সবচেয়ে বড় বহরগুলোর একটি।’

তিনি জানান, জাহাজ ‘কনসায়েন্স’ একেবারে নৌবহরের শেষদিকে যাত্রা শুরু করে। এতে রয়েছে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় অংশগ্রহণকারী দল। ৩০ সেপ্টেম্বর ইতালির ওত্রান্তো থেকে এর যাত্রা শুরু হয়। তবে এর আগেই ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’র কয়েকটি জাহাজকে আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। একটি জাহাজ প্রথমে আটক এড়ালেও পরে সেটিও আটক হয়।
শহিদুল বলেন, ‘তবে “কনসায়েন্স” এর আগে আরও আটটি নৌকা যাত্রা করে, সঙ্গে রয়েছে “ফ্লোটিং ফ্রিডম কোয়ালিশন”-এর দুটি জাহাজ। তাদের অবস্থার খবর এখনও নিশ্চিত নয়।’
“কনসায়েন্স” দ্রুতগামী হওয়ায় মাঝ সমুদ্রে অন্য জাহাজগুলোর সঙ্গে মিলিত হয়। তারা এখন একসঙ্গে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে গাজার উদ্দেশে। অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, সমুদ্রে দুই পাশের এই সংহতি মানবিক শক্তির প্রতীক,’ বলেন তিনি।
শহিদুল আরো বলেন, ‘ইসরায়েল যা-ই পরিকল্পনা করুক না কেন, এই জনসমূদ্রকে থামানো সম্ভব নয়।’
ইতিহাসের অনিবার্যতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা সংকল্প নিয়েছেন গাজার অবরোধ ভাঙার। যদি তাদের আটকালেও নতুন বহর আসবে। ইতিহাসে কোনো স্বৈরশাসক জনগণের শক্তির সামনে টিকে থাকতে পারেনি। ইসরায়েলও পারবে না। ফিলিস্তিন মুক্ত হবেই!’


