‘কুষ্ঠ রোগ নিরাময়যোগ্য, সামাজিক কুসংস্কার প্রকৃত বাধা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশে রোববার বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩ হাজার মানুষ নতুন করে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠরোগ শূন্যে নামিয়ে আনতে সরকারের অঙ্গীকার এবং সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
রোববার সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় কুষ্ঠ কর্মসূচি (এমবিডিসি), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার সহায়তায় রাজধানীর মহাখালীতে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ‘মেলাঘর’ কনফারেন্স রুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম ম্যানেজার (লেপ্রোসি) আফসানা আলমগীর খান দেশের কুষ্ঠ পরিস্থিতির বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন।
আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, এখনো প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৩ হাজার মানুষ নতুন করে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধিতা এবং সামাজিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার ওপর জোর দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ২০৩০ সালের বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। সভায় জানানো হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠরোগ শূন্যতে নামিয়ে আনার বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রাকে অর্জন করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার এবং সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার গুরুত্ব এখন সবচেয়ে বেশি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দুর্গম এলাকায় বিশেষ স্ক্রিনিং ক্যাম্প এবং নিয়মিত ‘কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং’ বা রোগীর সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের পরীক্ষার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু জাফর তার বক্তব্যে বলেন, কুষ্ঠরোগমুক্ত দেশ গড়তে কুসংস্কার দূর করা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, জীবাণু নয়, বরং কুসংস্কারই এই রোগের চিকিৎসার পথে বড় বাধা। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সকল সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সরকারি-বেসরকারি সকল সংস্থাকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, যুগ্ম সচিব মামুনুর রশিদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এডিজি (এডমিন) খায়ের আহমেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ডার্মাটোলজিকাল সোসাইটির মহাসচিব রাশেদ মোহাম্মদ খানসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় কুষ্ঠ কর্মসূচিকে বেগবান করতে ‘সাসাকাওয়া হেল্থ ফাউন্ডেশন জাপান, দ্য লেপ্রোসি মিশন, ড্যামিয়েন ফাউন্ডেশন, হিড বাংলাদেশ এবং সালভেশন আর্মির মতো সহযোগী সংস্থাগুলোর অবদানের কথা সভায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। অনুষ্ঠানে কুষ্ঠরোগে ভুক্তভোগী ব্যক্তিরাও উপস্থিত থেকে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।


