টাকা ও গহনা চুরি করায় পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখানোয় ঢাকার মোহাম্মদপুরে গৃহকর্ত্রী লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসাকে (১৫) হত্যা করেন গৃহকর্মী আয়েশা।
প্রাথমিক তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি।
নজরুল ইসলাম জানান, গৃহকর্মী আয়েশা কাজে যোগ দেওয়ার দ্বিতীয় দিনই দুই হাজার টাকা চুরি করেন। এর পরদিন এ নিয়ে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় গৃহকর্ত্রী লায়লার। এরপর ঘটনার দিন আয়েশা তার সঙ্গে একটি সুইচ গিয়ার চাকু নিয়ে কাজে আসেন। ওইদিন তর্কের একপর্যায়ে লায়লাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন আয়েশা। শব্দ শুনে ঘুমন্ত নাফিসা উঠে আসেন এবং ইন্টারকমে কল করে সাহায্য চাইতে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করেন তিনি।

গৃহকর্মী আয়েশা স্বভাবসুলভভাবেই অপরাধপ্রবণ। চলতি বছরের জুলাইতে তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় আট হাজার টাকা চুরির অভিযোগে জিডি করা হয়েছিল। নিজের বোনের বাসা থেকেও তিনি টাকা চুরি করেন বলে জানান নজরুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মা মেয়েকে হত্যার পর আয়েশা বাসা থেকে মোবাইল, ল্যাপটপসহ দামি জিনিস চুরি করে ছদ্মবেশ ধারণ করেন এবং বাসা থেকে চলে যান। এরপর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে গিয়ে নিজের কাপড় পড়ে হেমায়েতপুরের উদ্দেশ্যে বের হন। সেখান থেকে বরিশালের ঝালকাঠিতে দাদা শ্বশুরের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন তিনি। সেখান থেকেই চুরি হওয়া মোবাইল, ল্যাপটপ, গহনাসহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি জব্দ করে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডে তৃতীয়পক্ষের সংশ্লিষ্টতা পায়নি পুলিশ। তবে তদন্ত চলমান থাকবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।

সোমবার সকালে মোহাম্মদপুরের শাজাহান রোডের একটি আবাসিক ভবনের সাততলায় নিজেদের বাসায় খুন হন মা লায়লা আফরোজ (৪৮) এবং মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫)।
ওই ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বোরকা পরে মুখ ঢেখে লিফটে প্রবেশ করছেন এক নারী। কিছুক্ষণ পর স্কুল ড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে মুখ ঢেকে তাকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
ভবনটির দারোয়ানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই বোরকা পরা নারী ভবনের সাততলায় কাজ করতে গিয়েছিলেন।


