প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরাচার যেন পুলিশকে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে সক্ষম না হয়, আসুন আজ আমরা এই শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।’
রোববার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।
এবারের পুলিশ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য, আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ । আগামী ১৩ মে পর্যন্ত উদযাপিত হবে এবারের পুলিশ সপ্তাহ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে বর্তমান সরকারের মাধ্যমে।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বছরের পর বছর হামলা-মামলা, নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার মানুষ বর্তমান সরকারের কাছে শান্তি এবং নিরাপত্তা চায়। দেশের জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনাদের কাজ। আপনারা জনগণের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য এবং সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবেন, এটিই আপনাদের কাছে বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে দক্ষতা এবং পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু দেশেই নয়, জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা কার্যক্রমেও বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা পেশাদারত্ব, সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জাতিসংঘ শান্তি মিশনে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সুতরাং শুধু বিদেশেই নয়, দেশের জনগণের সঙ্গেও পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে দুটি ঘটনা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ—একদিকে চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার “উই রিভোল্ট” ঘোষণা, অন্যদিকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশের মরণপণ প্রতিরোধ। এই দুই ঘটনার পর স্বাধীনতাকামী মানুষের আর পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ ছিল না।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রজন্ম থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রজন্ম—যারা ইতিহাস পাঠ কিংবা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জেনেছেন—তাদের মনেও এখনো কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে যখন স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য ঢাকায় আনা হচ্ছিল, তখন সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস একত্রে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী কৌশল বা যুক্তি ছিল—এটি এখনো মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানের বিষয় হতে পারে।
পরে বর্ণিল প্যারেড উপভোগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি কেবল আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছিল না; বরং পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা, দায়িত্ববোধ এবং সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের প্রতিফলন ছিল।


