ঢাকার পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের অফিসার কোয়ার্টারের বাথরুম থেকে এক শিশু গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত শিশুটির নাম বিবি হালিমা, তার বয়স ছিল ১১ বছর। তার বাসা কামরাঙ্গিরচর ভান্ডারিয়ার মোড়ে, বাবার নাম মৃত শাহ আলম।
সোমবার বেলা ৩টার দিকে বিজিবি সদর দপ্তরের অফিসার্স কোয়ার্টারের একটি বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে মরমেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় পুলিশ।
নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মারুফ হাসান জানান, বাথরুমে কাপড় রাখার হ্যাঙ্গারের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
শিশুটি বিজিবি সদরদপ্তরে গণসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম ও গৃহকর্ত্রী ডা. তুনাজোনা বিনতে মাহবুবের বাসায় গত ছয় মাস ধরে কাজ করত বলে জানান এসআই মারুফ।
তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় তারা দুজনই বাসার বাইরে ছিলেন। বাসায় তাদের একমাত্র শিশু সন্তান ছিল। ওই বাসার রানার মো. সালাউদ্দিন বাজার নিয়ে বাসায় আসে। এসে বিবি হালিমাকে খুঁজে পায় না। পরে বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পায়। অনেক ডাকাডাকি করে সাড়াশব্দ না পেয়ে থানায় খবর দেয়।’
এসআই জানান, বেলা ১২টার দিকে সবশেষ বিবি হালিমার সঙ্গেড় কথা হয়েছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছেন গৃহকর্ত্রী ডা. তুনাজোনা।
হালিমার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানান, ‘চাকরির কারণে তিনি ও তার স্ত্রী দুজনই কর্মস্থলে ব্যস্ত থাকতেন। সে কারণে প্রায় ৫–৬ মাস আগে এক কিশোরীকে বাসায় রাখা হয়, যার একমাত্র দায়িত্ব ছিল তাদের ১১ মাসের শিশুসন্তানকে দেখাশোনা করা।’
বাসার অন্য কোনো কাজ তার ওপর দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও শিশুসন্তানকে ওই কিশোরীর কাছে রেখে স্বামী-স্ত্রী দুজনই কর্মস্থলে চলে যান। দুপুরের দিকে বাসার নিচে শিশুটিকে একা খেলতে দেখে ভবনের লোক তাদের ফ্ল্যাটে ঢুকে গৃহকর্মীকে খুঁজতে শুরু করেন। এ সময় বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখা যায়।
খবর পেয়ে শরীফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী দ্রুত বাসায় ফিরে আসেন। পরে পুলিশকে জানানো হলে বাথরুমের দরজা ভেঙে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


