পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জনগণের ন্যায্য দাবি পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন মেনে নেওয়ার জন্য বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)।
শুক্রবার বিকাল ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ২৮তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল পরবর্তী ছাত্র সমাবেশে নেতারা এই আহ্বান জানান।
সমাবেশে পিসিপির নেতারা বলেন, ‘স্বাধীনতর ৫৫ বছর পরও এ দেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু জাতিগুলোর সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। উপজাতি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের হেয় করা হয়েছে। তাদের জাতিগত পরিচয় মুছে দিতে বাঙালি হয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের জাতিগত পরিচয় ও অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।’
সমাবেশে ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দীলিপ রায় বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বম জাতিগোষ্ঠীকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে। একটা পুরো জাতিগোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী চিহ্নিত করে বন্দী করে রাখাটা আমরা পশ্চিম পাকিস্তান আমলে দেখেছিলাম। বাঙালি জাতিগোষ্ঠীকে পশ্চিম পাকিস্তানিরা যেভাবে নির্যাতন করেছে বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী সেভাবে পাহাড়িদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। শেখ মুজিব আমলে পাহাড়ে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, জিয়াউর রহমানের আমলে সেটলার পুনর্বাসন করেছে।’
তিনি পাহাড়কে মুক্ত করতে এদেশের পাহাড় সমতলের শ্রমিক, কৃষক, নিপীড়িত জাতি ও মেহনতি মানুষের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসন তুলে নিয়ে প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসন কায়েম করার দাবি জানিয়ে সংগঠনটির নেতারা বলেন, ‘সমতলে গণতন্ত্র থাকবে, কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে থাকবে সেনাশাসন, সেটা হতে পারে না। পাহাড়ি জনগণ কী অপরাধ করেছে যে, তাদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে! এমন বৈষম্যের জন্য ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান হয়নি।’
নেতারা আবু সাঈদ ও মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ অভ্যুত্থানে শহীদদের বৈষম্যবিরোধী চেতনার সঙ্গে বেঈমানী না করার জন্য বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে পিসিপির নেতারা বলেন, ‘বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত ১১ মার্চ এক সেমিনারে বাংলাদেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের হুমকির কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে শতভাগ মানবাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয় এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এখতিয়ারের বাইরে রাখতে হবে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সেনাবাহিনী ও সেটলারদের মানবাধিকার লঙ্ঘনে প্ররোচনা ও উৎসাহিত করার সামিল। আমরা তার এই মানবাধিকার-বিরোধী বক্তব্যের নিন্দা জানাই এবং উক্ত বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাই।’
সমাবেশের আগে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) ২৮তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সম্পন্ন হয়। এতে সর্বসম্মতিক্রমে সমর চাকমাকে সভাপতি, সোহেল চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক ও রোনাল চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।


