নরসিংদীর ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে এবার পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদি ও নাতনিকে হত্যা করা হয়েছে। নাতনিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. মমিনুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন ওই গ্রামের মৃত নজিমুদ্দিনের স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৭০) ও তার নাতনি জামিলা আক্তার (১৫)। সে কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসায় দশম শ্রেণিতে পড়ত। বাড়িতে তারা দু’জনই থাকতেন। কোনো পুরুষ মানুষ বাড়িতে ছিলেন না।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন সুফিয়া বেগম ও তার নাতনি জামিলা। মধ্যরাতের পর হঠাৎ তাদের বাড়ি থেকে কান্নাকাটির আওয়াজ শুনে রাস্তায় বের হন প্রতিবেশীরা৷ কিন্তু ভয়ে কেউ এগিয়ে যেতে সাহস পাননি। পরে কান্নার আওয়াজ থেমে গেলে যে যার বাড়িতে চলে যান। সকালে বাড়ির প্রবেশমুখে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। আর নাতনি জামিলার মরদেহ বাড়ির পাশে সরিষার খেতে বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার। শনিবার বিকালে তাদের আটক করে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, ঈশ্বরদী উপজেলার ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের নুরুল মণ্ডলের ছেলে রাব্বি মণ্ডল এবং মফেজ্জল হোসেনের ছেলে শরিফুল ইসলাম। তাদের পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রণব কুমার বলেন, ‘সুরতহাল প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে জামিলাকে ধর্ষণের পর হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তথ্য মতে, জামিলাকে ধর্ষণ করার উদ্দেশ্যে এসেছিল দুর্বৃত্তরা। দাদি বাধা দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
দাদি-নাতনি হত্যার ক্লু হাতে পেয়েছে পুলিশ: অতিরিক্ত ডিআইজি
দাদি-নাতনি হত্যাকাণ্ডের ক্লু পাওয়া গেছে কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার মো. শামীম হোসেন।
শনিবার বিকেলে উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে দাদি ও নাতনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা ক্লু হাতে পেয়েছি। এই ক্লু ধরেই পুলিশের স্পেশাল একটি টিম এখন ঈশ্বরদীর বাইরে অবস্থান করছে। আরেকটি টিম আসামি ধরতে অভিযানে রয়েছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে প্রকৃত আসামি ধরতে পারব।’
এর আগে তিনি হত্যাকাণ্ডের এলাকা পরিদর্শন, ভুক্তভোগীদের আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেন।


