চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপন

চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপন
Advertisement
Advertisement

চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৪০টি গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে শুক্রবার সকালে এসব গ্রামের মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন।

সকাল সাড়ে ৮টায় হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরিফের ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় প্রধান জামাত। এতে ইমামতি করেন দরবার শরিফের পীর আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

জানা গেছে, প্রায় ৯৮ বছর আগে ১৯২৮ সালে সাদ্রা দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইছহাক চৌধুরী এই পদ্ধতিতে রোজা ও ঈদ পালনের প্রচলন শুরু করেন। পরবর্তীতে তার অনুসারীরা চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকায় এ রীতি অনুসরণ করে আসছেন। বর্তমানে হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, শাহরাস্তি ও মতলব উপজেলার ৪০টি গ্রামে এই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।

আরও পড়ুন

তবে আগাম ঈদ উদযাপন করলেও স্থানীয় মুসল্লিরা সারা দেশের মুসলমানদের সঙ্গে একদিনে ঈদ উদযাপনের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে আলেমদের সমন্বয়ে সরকারিভাবে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানান তারা।

অন্যদিকে দরবার শরিফের পীর দাবি করেন, কোনো নির্দিষ্ট দেশের অনুসরণ নয়, বরং শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পৃথিবীর যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই তারা ধর্মীয় রীতি পালন করে থাকেন।

ঈদ উদযাপন করা গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে- হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, জাকনী, প্রতাপপুর, বাসারা; ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা ও গোবিন্দপুরসহ অন্যান্য গ্রাম।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুসরণের ধারাবাহিকতায় এই আগাম ঈদ উদযাপন হলেও জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে একদিনে ঈদ উদযাপনের বিষয়ে সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad