চট্টগ্রাম নগরের পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রোন দিয়ে নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী।
ঝুঁকি বিবেচনায় নগরের ২৯৪টি পূজামণ্ডপকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন এবং গোয়েন্দা নজরদারিও চলছে।
সোমবার টাইমস অব বাংলাদেশের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন সিএমপি কমিশনার।
হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরুর সময় থেকেই নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজা ঘনিয়ে আসায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। ঝুঁকি বিবেচনায় পূজামণ্ডপগুলোকে কম গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও অতি গুরুত্বপূর্ণ–এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পোশাক পরিহিত পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকে সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রোন ব্যবহার করে পূজামণ্ডপগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিমা বিসর্জনের দিনও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে সিএমপি।
নগরের রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান পুলিশ কমিশনার।
দুপুরে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা টাইমসকে বলেন, দুর্গোৎসব আনন্দঘন ও নির্বিঘ্ন করতে সরকার এবং জেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা উদযাপনে সরকারের সহায়তা আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সাড়ে ১২ হাজার আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছেন। সব পূজামণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদেরও সুসংগঠিত করা হয়েছে, যাতে তারা নিরাপত্তার কাজে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতি তদারকিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ট্যাগ কর্মকর্তা, এনডিসি কর্মকর্তারাও কাজ করছেন। তিনি পুলিশ সুপার মাসুদ আলমকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছেন।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, রোববার তিনি জেলে পল্লিতে গিয়ে সেখানকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। নিম্ন আয়ের মানুষের উৎসবও যাতে আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়, সে লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করছে। পুরো জেলায় নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।


