ঢাকার পল্লবীতে মাদক বিক্রির লেনদেনকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী ল্যাংড়া রুবেলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগ।
বুধবার ডিএমপির মিডিয়া সেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।
এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, এক হাজার পিস ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত দুটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—হামিদ খান ওরফে মাখন, ল্যাংড়া রুবেল, তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পা, পারভেজ ও রাব্বী।
ডিবি প্রধান জানান, গত ৭ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় ইমনের চায়ের দোকানের সামনে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে আলমগীর নামে এক ব্যক্তি পেটে ও মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। একই হামলায় জোসনা নামে এক পথচারী নারী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। পরে আলমগীরের স্ত্রী বাদী হয়ে পল্লবী থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা করেন।
ঘটনার পর ডিবি মিরপুর বিভাগের একটি দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গোলাগুলিতে ব্যবহৃত একটি টয়োটা প্রিমিও গাড়ি শনাক্ত করা হয়। পরে গাড়িটির মালিক হামিদ খান ওরফে মাখনকে পল্লবী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে হামিদ জানান, গাড়িটি তার নামে নিবন্ধিত হলেও এর প্রকৃত মালিক কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ল্যাংড়া রুবেল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রুবেলের সহযোগী পারভেজ ও রাব্বীকে কালশী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে রুবেলের ব্যবহৃত একটি সাদা টয়োটা ভক্সি গাড়ি এবং গাড়ির ভেতর থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পরে পারভেজ ও রাব্বীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপনগর থানার ইস্টার্ন হাউজিংয়ের পাশের বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ল্যাংড়া রুবেল ও তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মাদক বিক্রির লেনদেনকে কেন্দ্র করে ল্যাংড়া রুবেল ও তার সহযোগীরা ওই গোলাগুলিতে জড়িত ছিল।
ডিবি প্রধান আরও জানায়, গ্রেপ্তার ল্যাংড়া রুবেলসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। পল্লবীর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা চেষ্টা মামলার পাশাপাশি অস্ত্র আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আলাদা দুটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


