যশোরের মনিরামপুরে পরিত্যক্ত জজ আদালতের জরাজীর্ণ হাজতখানায় চলছে সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম। ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে জমি নিবন্ধনসংক্রান্ত লাখ লাখ গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও বালাম বই। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে নষ্ট হচ্ছে বহু বছরের পুরোনো রেকর্ডপত্র। নথিপত্র রক্ষায় বাধ্য হয়ে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হচ্ছে মূল্যবান এসব দলিল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮২ সালের ৭ নভেম্বর উপজেলা পরিষদ অধ্যাদেশ জারির পর এখানে মুন্সেফ ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে নির্মিত বিচারকদের কক্ষ, এজলাস ও হাজতখানা ১৯৯১ সালে আদালত জেলা সদরে স্থানান্তরিত হওয়ার পর থেকে পরিত্যক্ত পড়ে থাকে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ভাড়া ভবনে কার্যক্রম চালানোর পর ১৯৯৪ সালে সেই ভবনের একাংশ ধসে পড়ে। এরপর বিকল্প হিসেবে উপজেলা চত্বরের এই পরিত্যক্ত ভবনে সাবরেজিস্ট্রি অফিস স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু গত তিন দশকেও ভবনটি একবারের জন্যও সংস্কার করা হয়নি।
২০২০ সালে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মূলত সাবরেজিস্ট্রি অফিস আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন এবং উপজেলা চত্বরের ভবনগুলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত হওয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। দুই মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক ও আইনগত জটিলতায় আটকে আছে নতুন ভবন বরাদ্দ।
প্রতিদিন সেবা নিতে আসা শত শত মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ভবনে আসতে হচ্ছে। ছাদ থেকে পানি পড়ার কারণে গুরুত্বপূর্ণ বালামবই ও দলিল সংরক্ষণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাবরেজিস্ট্রার রিপন মুন্সী জানান, নিজস্ব ভবনের জন্য একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
জেলা গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালে সমন্বিত কার্যালয় ভবনের একটি প্রকল্প নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তবে বর্তমান সরকার নতুন করে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।


