পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন।
বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, সরকারের কমতে থাকা জনপ্রিয়তা ফেরানোর চেষ্টা করতে পারেন- এমন কোনো নতুন নেতার হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে দলীয় প্রধান হিসেবে সরে দাঁড়ালেন স্টারমার।
এর মধ্য দিয়ে চলতি দশকের ষষ্ঠ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দাঁড়িয়ে বিদায়ের ঘোষণা দিলেন তিনি।
বেশ কয়েকদিন ধরেই স্টারমার পদত্যাগ করতে পারেন বলে গুঞ্জন উঠেছিল। লেবার পার্টির চাপের মুখে ক্ষমতার লাগাম অন্যের হাতে তুলে দিতে সোমবারের মধ্যেই তিনি পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেন- এমন প্রত্যাশাও জোরালো হচ্ছিল।
সম্প্রতি পার্লামেন্টের একটি আসনের উপনির্বাচনে নিজ দলের ভেতরের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহামের জয়ের পর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় পড়েন এই লেবার নেতা। গত সপ্তাহ পর্যন্ত গ্রেটার ম্যানচেস্টারের লেবার মেয়র থাকা বার্নহাম দল ও দেশের নেতৃত্বে স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ করার লক্ষ্য নিয়েই নির্বাচনে লড়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাজ্যের সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় পার্লামেন্টে যে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে, সেই দলের নেতাই দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন।
পার্লামেন্টে স্টারমারের লেবার পার্টির বর্তমানে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।
তাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হলে প্রথমে লেবার পার্টিকেই নতুন দলীয় নেতা নির্বাচন করতে হবে।
সে হিসেবে বার্নহাম সোমবার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ায় তিনিই পরবর্তী দলীয় নেতা ও দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্টারমার বলেছেন, নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে তিনি লেবার পার্টি নির্দেশ দেবেন। প্রার্থীদের মনোনয়ন নেওয়া শুরু হবে ৯ জুলাই।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নেতৃত্ব নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ পদেই থাকবেন এবং সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করতে যা যা করা সম্ভব, সব করবেন।
স্টারমারের আশা, সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হওয়ার সময়ের মধ্যেই নতুন নেতা ও প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেবেন।
রয়টার্সে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, জাতির উদ্দেশে ভাষণ শেষ করার সময় স্টারমারের চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে এবং তার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে।
বক্তব্যের শেষ তিনি বলেন, ব্রিটিশ রাজনীতির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে সময় দেবেন। সেটি হলো তার ‘অসাধারণ স্ত্রী’ ভিক্টোরিয়ার সেরা স্বামী হওয়া এবং তার ‘সুন্দর সন্তানদের’ সেরা বাবা হওয়া।


