হিমালয় কন্যা খ্যাত উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পর তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। তবে কমেনি শীতের দাপট।
শনিবার সকাল ৯টায় জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। কুয়াশা না থাকলেও সকাল ১০টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। বেশি আর্দ্রতার কারণে ঠান্ডার অনুভূতি ছিল তীব্র।
এর আগের দিন শুক্রবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৩ শতাংশ। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়াতেই রেকর্ড করা হয়। একইদিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ২৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
এছাড়া বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেদিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭২ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় আট থেকে ১০ কিলোমিটার। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গত কয়েক দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ওঠানামা করেছে।
চলতি শীত মৌসুমে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় গত ১১ ডিসেম্বর। সেদিন পারদ নেমে আসে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এ মৌসুমে দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
সরেজমিন দেখা যায়, কনকনে শীতের কারণে জেলার নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। সন্ধ্যা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত শীতের সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশায় আচ্ছাদিত থাকে এ অঞ্চল। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে জেলার ওপর দিয়ে হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
পাশাপাশি শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অন্যদিকে, বিভিন্ন হাটবাজারে শীতবস্ত্রের দোকানের পাশাপাশি পিঠাপুলির দোকানগুলোও জমে উঠেছে।
তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর এলাকার বাসিন্দা শহিদুল হক বলেন, ‘কয়েক দিনের তুলনায় এখন শীত একটু বেশি। সন্ধ্যার পর থেকে হালকা বাতাসের সঙ্গে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে।’
শহরের ইজিবাইক চালক শাহ আলম বলেন, শুক্রবার থেকে বাতাস আর ঠান্ডার কারণে যাত্রী কম পাচ্ছি। শীতে আমাদের মতো গরিব মানুষের খুব কষ্ট হয়।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ উপজেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ছিল। শনিবার তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে, তবে আর্দ্রতা বেশি থাকায় শীতের অনুভূতি রয়ে গেছে। ডিসেম্বরের শেষের দিকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, মাঘের প্রথম সপ্তাহে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, আর কুয়াশায় চুয়াডাঙ্গা জীবননগরের বিভিন্ন এলাকায় বোরো বীজতলা ক্ষতির মুখে পড়েছে। কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে অনেক চারা হলুদ বির্বণ হয়ে যাচ্ছে, এতে করে অনেক বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শনিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বোরো চাষিরা বোরো ধানের বীজের চারাগুলিকে রক্ষার জন্য কুয়াশার বালাইনাশক স্প্রে করছেন। অনেক কৃষক বিকালে বীজতলায় পানি সেচ দিয়ে আবার সকালে জমি থেকে পানি বের করে দিচ্ছেন যাতে চারাগুলো সতেজ থাকে।
জীবননগর উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ৩৮০ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
জীবননগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গত কয়েক দিনের মাঝারি শৈতপ্রবাহে বীজতলার তেমন ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। বীজতলা রক্ষার জন্য প্রতিদিন সন্ধ্যায় বীজতলার পানি জমিয়ে সকালে ছেড়ে দিতে হবে। এতে করে বোরো বীজতলার ক্ষতি হওয়ার কোনো কারণ নেই। কৃষি বিভাগ কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছেন।’


