নেত্রকোনার কলমাকান্দা পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বাবুল মিয়া (৬২) নামে এক বয়োবৃদ্ধ শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের বরদল পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বাবুল মিয়া ওই গ্রামেরই মৃত সোনাহর মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ধান ভাঙার মেশিনে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন আগে একই গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ধান কাটার কাজ করেছিলেন বাবুল মিয়ার ছেলে মো. সিরাজুল ইসলাম। সেই শ্রম বাবদ হাবিবুর রহমানের কাছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পাওনা ছিল সিরাজুলের।
এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিরাজুল ইসলাম বরদল গ্রামের পাশের জমিতে শ্রমিক হিসেবে অন্য ধান কাটার কাজ করছিলেন। ওই সময় সেখানে হাবিবুর রহমানের দেখা মিললে সিরাজুল তার ন্যায্য পাওনা টাকা চান।
কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাবিবুর রহমানের সঙ্গে থাকা সাদ্দাম, মোস্তাকিম ও মোজাকিমসহ কয়েকজন মিলে সিরাজুল ইসলামের ওপর চড়াও হন এবং তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন।
নিকটবর্তী স্থানে থাকা সিরাজুলের বাবা বাবুল মিয়া ছেলেকে মারধরের শিকার হতে দেখে তাকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে জানান, বাবুল মিয়া এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা অত্যন্ত বর্বরোচিতভাবে তাকে ধরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং বুকের ওপর চড়ে উপর্যুপরি কিল-ঘুসি মারতে থাকে। বৃদ্ধ বাবুল মিয়া গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এবং স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় বাবুল মিয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শৌভিক শ্রাবণ দত্ত বলেন, ‘হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই বাবুল মিয়ার মৃত্যু হয়েছিল। আমরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে অবহিত করি।’
এ ব্যাপারে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. হাফিজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোস্তাকিমকে আটক করা হয়েছে।


