মিয়ামিতে ‘সি’গ্রুপের ভাগ্যনির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ড। দুই দলের সামনেই নকআউট পর্বের টিকিট কাটার সুযোগ। আর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে স্কটিশ ডিফেন্ডার জ্যাক হেনড্রি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নেইমারের দলে ফেরা নিয়ে তার মনে কোনো ভয় নেই।
ইনজুরির কারণে ব্রাজিলের প্রথম দুটি ম্যাচে ডাগআউটে বসেই কাটাতে হয়েছে নেইমারকে। চলতি বিশ্বকাপে এখনো এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামেননি সেলেসাও তারকা। তবে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি ইঙ্গিত দিয়েছেন, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেই মাঠে ফিরতে পারেন এই ফরোয়ার্ড। গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে এটি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আক্রমণভাগে বড় শক্তি জোগাবে।
৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্কটল্যান্ডের সমীকরণটি বেশ সহজ। পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করতে এই ম্যাচ থেকে একটি ভালো ফলাফল দরকার তাদের। অন্যদিকে এক জয় ও এক ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিল।
ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন হেনড্রি। এটিকে সমস্যা হিসেবে না দেখে বরং একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে মুখিয়ে আছেন এই ডিফেন্ডার।
নেইমারের ফেরা নিয়ে হেনড্রি বলেন, ‘নেইমার ফিরছেন? কোনো সমস্যা নেই। নেইমারের মুখোমুখি হতে আমি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আমি এই লড়াইয়ের অপেক্ষায় আছি। এটি সত্যিই দারুণ এক দ্বৈরথ হতে যাচ্ছে। ও যদি খেলে, তবে আমি ওর জন্যই প্রস্তুত আছি।’
হেনড্রি অবশ্য অভিজ্ঞতা ছাড়াই এমন হুঙ্কার দিচ্ছেন না। ২০২১ সালে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ক্লাব ব্রুগের হয়ে পিএসজির মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেবার মাঠের লড়াইয়ে নেইমারকে আটকে রাখার অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাঁর, ম্যাচটিও ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল।
নেইমার যদি সত্যিই মাঠে নামেন, তবে স্কটল্যান্ডের ডিফেন্সের এক কঠিন পরীক্ষা নেবে ব্রাজিল। দুই ম্যাচ থেকে চার পয়েন্ট নিয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে সেলেসাওরা। নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে এই ম্যাচ থেকে মাত্র একটি ড্র প্রয়োজন তাদের।
তবে স্কটল্যান্ডের জন্য কাজটা কিছুটা কঠিন। এই ম্যাচে হেরে গেলে তাদের পরের রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্ন আটকে যাবে অন্য ম্যাচের ফলাফলের ওপর, যা তাদের সমীকরণকে জটিল করে তুলতে পারে। আপাতত প্রতিপক্ষের তারকাখ্যাতি নিয়ে না ভেবে স্কটল্যান্ডকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তেই বেশি বুদ হয়ে আছেন হেনড্রি।


