বেতন-বোনাসসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভের মুখে নীলফামারীর উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেডে) চারটি প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ায় বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা।
সোমবার সকালে ইপিজেড এলাকায় জড়ো হয়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করলে সেখানকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।
শ্রমিকদের টানা আন্দোলনের মুখে রোববার নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডের চারটি প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
বন্ধ ঘোষণা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—দেশবন্ধু টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, ইপিএফ প্রিন্ট লিমিটেড, মেইগো বাংলাদেশ লিমিটেড এবং সেকশন সেভেন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, ‘আমাদের ভেতর অনেকেই বেতন বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আন্দোলন করে আসছিলেন, আমি যদিও এই আন্দোলন এ ছিলাম না। হঠাৎ কারখানা বন্ধ হয়ে গেল, এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।’
স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল আলম বলেন, ‘কথাবার্তা ছাড়াই কিছু হইলেই শ্রমিকরা আন্দোলন করে। এরা কাজ করতে আসে, নাকি আন্দোলন করতে! আমরা ইপিজেডের আশায় লোন নিয়েছি। এখন এই কোম্পানিগুলো বন্ধ হয়ে গেলে কীভাবে চলব, কীভাবে কী করব! শ্রমিকরা কোনোকিছু না বুঝে অযথা আন্দোলন করে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন, ‘বিভিন্ন দাবিতে টানা আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা। আন্দোলনের মুখে রোববার চারটি প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর সোমবার সকালে শ্রমিকরা আবার ইপিজেড এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
‘আমরা বন্ধ ঘোষণা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ইপিজেডের উৎপাদনমুখী কার্যক্রমকে গতিশীল রাখার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’


