জাতীয় নির্বাচন, রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই অভ্যুত্থানের গণহত্যার বিচার– এই তিন বিষয়ে এক সঙ্গে রোডম্যাপ দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তাহলে জনগণ স্বস্তি পাবে, এ সরকারের প্রতি আস্থা ফিরে পাবে।’
তিনি আরো আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও ভবিষ্যত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের কথা ভেবে সবাইকে “দায়িত্বশীল আচরণ” করতে হবে। পাশাপাশি “আলাপ-আলোচনার” মধ্যে দিয়েই সমাধান সম্ভব বলে আমরা মনে করি।’
শনিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামটোরে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
এরআগে, বৃহস্পতিবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছিল, মুহাম্মদ ইউনূস ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে ‘কাজ করতে পারছেন না’। নাহিদ তাকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো যদি ঐক্যমতে না আসে, তাহলে আমি কাজ করতে পারব না।’
নাহিদের মতে, ইউনূস গভীর হতাশায় ভুগছেন এবং রাজনৈতিক শক্তির কাছে ‘জিম্মি বোধ’ করছেন। ‘যদি তিনি সব পক্ষের আস্থা না পান, তবে থাকার মানে কী?’ -বলেন নাহিদ। জাতীয় স্থিতিশীলতার স্বার্থে প্রধান উপদেষ্টাকে তিনি ‘পদত্যাগ না করার’ অনুরোধ জানান বলে দাবি করেছেন।
নির্বাচনের রোডম্যাপের প্রশ্নে সরকারের এমন টানাপোড়েনের ভেতরেই এই সংবাদ সম্মেলন ডাকে এনসিটি। ওদিকে, শনিবার সন্ধ্যায়ই প্রধান উপদেষ্টা বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা নাহিদ ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সেনা বাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী সময়ে তারা যে ভূমিকা পালন করছে, সেটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।’
‘কিন্তু একই সময়ে আমরা রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখেছি, বিভিন্ন সময় সেনা বাহিনীর সঙ্গে রাজনীতির একটি সম্পর্ক তৈরি হয়। সেটি আমরা এক-এগারোর ঘটনা জানি, এসব কিন্তু কখনই গণতন্ত্র, রাষ্ট্র এবং সেনা প্রতিষ্ঠানের জন্য ভাল ফলাফল নিয়ে আসেনি। এ বিষয়টি যেন আমরা সকলেই বিবেচনা করি। যার যেটা কাজ, যার যেটা দায়িত্ব, সে যেন সেটাই পালন করে’, যোগ করেন তিনি।
তার অভিযোগ, ‘বিগত সরকার সেনা, পুলিশসহ প্রতিটি বাহিনীকে দলীয়করণ করেছে, গণঅভ্যুত্থান দমনে তাদের ব্যবহার করেছে।’
নাহিদ বলেন, ‘এসব বাহিনী জুলাই অভ্যুত্থানের দোষীদের বিচারের মধ্য দিয়ে শায়েস্তা করবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাষ্ট্রীয় ও জনগণের প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে, এটিই আমাদের প্রত্যাশা।’
তিনি জানান, অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় সেনা নিবাসে আশ্রয়গ্রহণকারী বিগত সরকারের ৬২৬ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে সেনা বাহিনী। নাহিদ জানান, তারা প্রথম থেকেই এটি প্রকাশের দাবি করে আসছিলেন।
‘আরো আগেই এ তালিকা প্রকাশ করা হলে জনগণের মধ্যে কোনো সন্দেহ বা শংকা তৈরি হতো না এবং কেউ সেনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগ পেত না’, উল্লেখ করেন নাহিদ।


