বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের ‘সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি’ না দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দেশের ৫৬ শতাংশ মানুষই পিআর পদ্ধতি বোঝে না, তাই এ নিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো উচিত নয়।’ তার আরো অভিযোগ, যারা ‘নির্বাচন বানচালে ষড়যন্ত্র’ করছে, জামায়াতে ইসলামী তাদের পক্ষে কাজ করছে।
শনিবার দুপুরে রাজধানীতে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিএনপির এই নেতা সতর্ক করে বলেন, ‘পিআর পদ্ধতি দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এবং এটি জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
তার মতে, সংবিধান সংশোধন বা নতুন কোনো ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হলে তা অবশ্যই একটি বৈধ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া উচিত।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পিআর পদ্ধতি চালু হলেও সেখানে দীর্ঘমেয়াদি সরকার ব্যবস্থা টিকে থাকতে পারেনি।’ নেপালের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘সেখানে বারবার সরকার পরিবর্তন হলেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থে জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে জনগণকে ভুল পথে পরিচালিত করছে।’
সালাহউদ্দিন আরও বলেন, ‘পিআর পদ্ধতিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কোনো জায়গা নেই। এ ব্যবস্থায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারা সিদ্ধান্ত হবে, জনগণের হাতে কোনো ক্ষমতা থাকবে না, যা গণতন্ত্রকে ব্যাহত করবে। একটি এলাকার ভোটার তাদের প্রতিনিধি কে হবেন, তা জানতেও পারবেন না।’
বিএনপির এই নেতা সংবিধানের ৬৫(২) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলেন, ‘যেখানে স্পষ্ট বলা আছে ৩০০ সংসদ সদস্য সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন। যারা পিআর পদ্ধতি চায়, তারা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তা উল্লেখ করতে পারে, এবং জনগণ চাইলে তারা নির্বাচিত হবে। এটাই গণতন্ত্র।’
তিনি জাতীয় নির্বাচনের দিন একসঙ্গে একটি গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব দেন। সালাহউদ্দিন বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের মাধ্যমে যেসব সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য গণভোট জরুরি। জনগণ “হ্যাঁ” বা “না” বলুক তা মেনে নেওয়া হবে। এর ফলে পরবর্তী সংসদ সেই সংস্কার বাস্তবায়নে আইনগতভাবে বাধ্য থাকবে।’
সালাহউদ্দিন আহমেদ সতর্ক করেন, ‘সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে একটি কনস্টিটিউশনাল অর্ডার জারি করে তা পরিবর্তনের ক্ষমতা কারও নেই। এমনটি হলে দেশে দুটি সংবিধান বিরাজ করবে, যা বিচার বিভাগের জন্য জটিলতা তৈরি করবে। সংবিধান পরিবর্তন করতে হলে সুপ্রিম কোর্টের ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীনে মতামত নেওয়া প্রয়োজন।’
সালাহউদ্দিন আহমদ জামায়াতে ইসলামীর আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘জামায়াত যাদের নিয়ে আন্দোলন করছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাদের ভূমিকা কী ছিল, তা জাতি জানতে চায়।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘যারা আগামী নির্বাচন বানচাল করতে ষড়যন্ত্র করছে, এই রাজনৈতিক দল তাদের পক্ষেই কাজ করছে।’
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকবে, তবে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যমত জরুরি। ৫ অক্টোবর নির্ধারিত আলোচনায় সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয় অংশগুলো যেন বৈধ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় করার বিষয়ে ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত হয়।’
তিনি বলেন, ‘জনগণ বিজয়ী হোক, রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে থাকুক, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’


