দলীয় প্রতীক হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ‘শাপলা’ না দেওয়ায় নির্বাচন কীভাবে হয় তা দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
মঙ্গলবার এক ফেসবুক পোস্টে এই হুমকি দিয়েছেন তিনি।
এছাড়া বাংলাদেশের জাতীয় এই ফুলটি দেশের জাতীয় প্রতীকের অংশ হওয়ায় এনসিপির ‘শাপলা’ চাওয়া নিয়ে সমালোচনাও তৈরি হয়েছিল।
তবে এনসিপি বারবারই ‘শাপলা’র দাবি জানাচ্ছিল। লাল বা সাদা যেকোনো শাপলাই তারা প্রতীক হিসেবে ইসির কাছে চেয়ে আসছিল। এনসিপির অফিসিয়াল যে লোগো, সেখানেও শাপলা ফুল রয়েছে।
সবশেষ দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলা দেওয়ার সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশনের প্রতীক তালিকায় শাপলা না থাকায় তাদেরকে বিকল্প প্রতীক নিতে হবে।’
‘আমাদের ১১৫টি প্রতীকের তালিকায় শাপলা নেই। নিয়ম অনুযায়ী রাজনৈতিক দলকে নির্ধারিত তালিকার ভেতর থেকেই প্রতীক নিতে হয়। তাই এনসিপি চাইলে অন্য কোনো প্রতীক বেছে নিতে পারে। ইসি ও দলের সম্মতিতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে’।
ইসির এই বক্তব্যের পরই ফেসবুকে নিজের মত জানান সারসিজ আলম।

তিনি লিখেছেন, ‘ইলেকশন কমিশন সচিব বলেছেন মার্কার তালিকায় শাপলা নেই তাই এনসিপি শাপলা প্রতীক পাচ্ছে না। তারমা নে কোনো আইনগত বাধা নয় বরং তালিকায় না থাকার কারণে তারা এনসিপিকে শাপলা প্রতীক দিতে পারছে না।‘
এনসিপি প্রথম নিবন্ধনের জন্য যেদিন আবেদন করেছিল সেদিনই স্পষ্টভাবে মার্কা হিসেবে শাপলার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, বলেন সারজিস।
তিনি বলেন, ‘তাহলে ওই তালিকায় শাপলা মার্কা যুক্ত করা কাদের কাজ ছিল? এতদিন কী তারা নির্বাচন কমিশনে বসে বসে নাটক দেখেছে? নাকি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে বসে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান, দল বা এজেন্সির কথা মতো উঠবস করেছে।’
এ বিষয়টিকে ভন্ডামি উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, ‘সব ভন্ডামি রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা হবে। যেহেতু কোনো আইনগত বাধা নেই তাই এনসিপির মার্কা শাপলাই হতে হবে। অন্য কোনো অপশন নেই।’
‘নাহলে কোনো নির্বাচন কীভাবে হয় আর কে কীভাবে ক্ষমতায় গিয়ে মধু খাওয়ার স্বপ্ন দেখে সেটা আমরাও দেখে নেব।’


