আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, ‘ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং নভেম্বর থেকে প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে।’
শুক্রবার দুপুরে পটুয়াখালী সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর প্রস্তুতি হিসেবে আমরা সারা দেশে ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছি। কারণ, দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যা ভোট গ্রহণে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিধা ও আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। তবে আমরা আশাবাদী, এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারব।’
তিনি জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদ এখন শেষ পর্যায়ে এবং ভোটকেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া আসনবিন্যাস, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক নীতিমালা প্রণয়ন সম্পন্ন হয়েছে।
‘তিন বাহিনী–সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী এবং পুলিশ ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংলাপও শেষ হয়েছে’, বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘সব প্রস্তুতি শেষ করে আমরা চাই, ফেব্রুয়ারিতে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে।’
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণভোট এখনো নির্বাচন কমিশনের বিবেচনায় আসেনি। সরকার কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেটি আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হলে জনগণ তা জানতে পারবে।’
এ সময় তিনি জানান, নির্বাচন পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতায় সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রবাসী ভোটারদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নভেম্বর থেকে প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এবার কয়েদিরাও ভোট দিতে পারবেন, নির্বাচন কমিশন সে ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, তারাও ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন।’
সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো বড় চ্যালেঞ্জ দেখছি না। তফসিল ঘোষণা ও প্রতীক বরাদ্দের মতো প্রক্রিয়াগুলোও প্রস্তুত রয়েছে। কিছু প্রতীক বাদ দিয়ে আমরা নতুন ও সুন্দর প্রতীক নির্ধারণ করেছি।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মো. অহিদুজ্জামান মুন্সি, এবং জেলা প্রশাসন ও জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা দেন।


