রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। ফলে চিকিৎসকেরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, লন্ডন থেকে ছেলে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। এ ছাড়া ঢাকায় খালেদা জিয়ার পাশেই আছেন ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথি।
এরই মধ্যে দলের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় মঙ্গলবার সকাল ১১টায় নয়াপল্টনস্থ ভাসানী ভবন মিলনায়তনে জিয়া মঞ্চের উদ্যোগে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু।
এদিকে, সোমবার ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার আশু রোগ মুক্তি কামনা করে এক দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। নেতৃবৃন্দ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও ইসলামী মূল্যবোধের পক্ষে ও সব আগ্রাসন ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপোষহীন প্রশংসনীয় ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
আলোচনায় অংশ নেন অ্যাডভোকেট মাওলানা আব্দুর রকিব নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল করিম, ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা শওকত আমীন, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মোসাব্বির রহমান মোল্লা প্রমুখ।
সভা শেষে খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিম।
রোববার হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে রাতেই জরুরি ভিত্তিতে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড জানায়, খালেদা জিয়ার বুকে ইনফেকশন হয়েছে। হার্টের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। সংক্রমণ হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে তার খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত কিছু পরীক্ষা করে অ্যান্টিবায়োটিকসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়।
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তিনি। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। কিছুদিন পরপরই নানা শারীরিক জটিলতায় তাকে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।


