আত্মগোপনে থাকা নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডের এভারগ্রীন লিমিটেড কারখানার শ্রমিক নেতা সাইফুল ইসলাম ওরফে বাবুকে (২৫) উদ্ধারের পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সাইফুল ও তার বাবা শফিকুল ইসলামসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা করেছে ডিবি পুলিশ। সেই সঙ্গে আদালতের মাধ্যমে তাকে চারদিনের রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে।
রোববার বিকালে নীলফামারী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) এ বি এম ফয়জুল ইসলাম।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইপিজেড থেকে স্ত্রীকে আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন সাইফুল। ওইদিন রাতে তার বাবা নীলফামারী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এরই মধ্যে বিভিন্ন সময় স্থান পরিবর্তন করেন সাইফুল, এভারগ্রীনের কাছে চাঁদাও দাবি করেন। এক পর্যায়ে ফ্যাক্টরি থেকে তাকে পাঁচ হাজার টাকাও পাঠানো হয়। পরদিন শনিবার সন্ধ্যায় সৈয়দপুর শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় সাইফুল পুলিশের কাছে আত্মগোপনে থাকার কথা স্বীকার করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দাবি, গত ২ সেপ্টেম্বর নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় ইন্ধন দিয়েছিলেন সাইফুল। ঘটনার একদিন পর মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের বৈঠক শেষে সব দাবি মেনে নেওয়া হয়। এ সময় সাইফুলের মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে না দেখে নিজেই আত্মগোপনে যান এবং নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে দেন। মূলদ তিনি এভারগ্রীণ থেকে চাঁদা আদায় এবং সারাদেশে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়ানোর চক্রান্ত করছিলেন।
এ ঘটনায় মামলার পাশাপাশি আর কারা জড়িত রয়েছেন তাদেরও খোঁজে বের করে গ্রেপ্তার করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এ বি এম ফয়জুল ইসলাম বলেন, মূলত বহিঃবিশ্বে দেশের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্যই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
নীলফামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর সাঈদ বলেন, ‘ইপিজেডে পুনরায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির লক্ষ্যে ষড়যন্ত্র করে সাইফুল মিথ্যা নিখোঁজের অভিনয় করেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।’
এর আগে, ২ সেপ্টেম্বর উত্তরা ইপিজেডের এভারগ্রীন বিডির শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় এক শ্রমিক নিহত এবং শ্রমিকসহ ২৪ জন আহত হন।
বর্তমানের পরিস্থিতি শান্ত থাকায় সব কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছে। উত্তরা ইপিজেড সচল রাখতে জেলা প্রশাসন সজাগ রয়েছে বলে জানান নীলফামারীর পুলিশ সুপার জনাব এ.এফ.এম. তারিক হোসেন খান।
উত্তরা ইপিজেড নীলফামারী জেলার সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নে অবস্থিত। এই ইপিজেডটি বাংলাদেশের একমাত্র কৃষিভিত্তিক এবং সপ্তম বৃহত্তম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা। এর মোট আয়তন ২১৩ দশমিক ৬৬ একর। ১৯৯৯ সালেরন জুলাইয়ে ইপিজেডটি প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০০১ সালের জুলাইয়ে উদ্বোধন করা হয়েছে।


