নাটোরের সিংড়ায় কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও জিয়া পরিষদের সদস্য রেজাউল করিমকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী ওহাব আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে নিহতের সমর্থকরা। এসময় আগুনে পুড়ে ওহাব আলীর বৃদ্ধা মা ছাবিহা বেগমের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার রাতে উপজেলার কলম ইউনিয়নের কুমারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সিংড়ায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম আনু অভিযোগ করেন, রেজাউল করিম তার সমর্থক। তার প্রতিপক্ষ বিদ্রোহী প্রার্থী দাউদার মাহমুদের সমর্থক ওহাব আলী। তিনি রেজাউল করিমের হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন।
তবে দাউদার মাহমুদ অভিযোগ নাকচ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক বানানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তি (রেজাউল করিম) আগে কখনো বিএনপির সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। সম্প্রতি তিনি জিয়া পরিষদের সদস্য হয়েছেন বলে শোনা গেলেও, তা বিএনপির সক্রিয় কর্মী হওয়ার প্রমাণ নয়।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপির সম্পৃক্ততা টানা যুক্তিসংগত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, হত্যার প্রকৃত কারণ প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। এটি ব্যবসায়িক লেনদেন, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা কলেজ প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব থেকেও ঘটতে পারে।
বুধবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রেজাউল করিমকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত রেজাউল করিম কুমারপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ছাবেদ আলীর ছেলে। তিনি উপজেলা জিয়া পরিষদের সদস্য এবং বিল হালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, রেজাউল করিম ডায়াবেটিস রোগী হওয়ায় প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও খাবার শেষে নিজ বাড়ির সামনে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় তাকে একা পেয়ে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে। পরে স্থানীয়রা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। তবে প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কারণ বা জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
দুইটি মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


