এ বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়া নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ‘নিয়মবহির্ভূত কৌশল’ অবলম্বনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে শোকজ করা হয়।
রোববার ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।
এর আগে টেস্টে নিয়মবহির্ভূত উপায়ে শিক্ষার্থী ছাঁটাইয়ের অভিযোগ ঘিরে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতে, প্রতিষ্ঠানের শতভাগ জিপিএ-৫ এর ফলাফল ধরে রাখতেই টেস্ট পরীক্ষাকে শিক্ষার্থী বাছাইয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬০১ জন। কিন্তু দুই বছর পর ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩৮২ জন। অর্থাৎ নবম শ্রেণিতে নিবন্ধনের পর থেকে এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত ২১৯ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি।
অফিস আদেশে বলা হয়, চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর নরসিংদীর নাসিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস্ এর শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের জন্য নিয়মবহির্ভূত কৌশল অবলম্বনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর তথ্য, ৯ম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর তথ্য, এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর তথ্য এবং এসএসসি পরীক্ষায় ফরমপূরণকৃত শিক্ষার্থীর তথ্যসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র সশরীরে উপস্থিত হয়ে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে উত্থাপিত অভিযোগের কারণ ব্যাখ্যার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অত্যন্ত জরুরি এই নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, টেস্টে বাদ পড়া শিক্ষার্থীরা নরসিংদীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিয়েছে। নরসিংদী সানবীন স্কুলে ভর্তি হয়ে এসএসসি দেওয়া এমন ৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৫ জনই পেয়েছে জিপিএ-৫।
উল্লেখ্য, গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৮২ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ জিপিএ–৫ পায়। এবার বিদ্যালয়টির বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩৭৬ ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ৬ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।
গত বছরও ৩২০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই জিপিএ–৫ পেয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৪ সালে ২৯৪ জনের মধ্যে ২৯৩ জন, ২০২৩ সালে ২৭৮ জনের মধ্যে ২৭০ জন, ২০২২ সালে ২৬৬ জনের মধ্যে ২৬৬ জন, ২০২১ সালে ২৪৭ জনের মধ্যে ২৩৭ জন, ২০২০ সালে ২১৪ জনের মধ্যে ২০০ জন, ২০১৯ সালে ১৭১ জনের মধ্যে ১৬৮ জন, ২০১৮ সালে ১৩৯ জনের মধ্যে ১৩৭ জন এবং ২০১৭ সালে ১৬৪ জনের মধ্যে ১৬৪ জনই জিপিএ-৫ অর্জন করে।


