নাইন ইলেভেনের আগে লাদেনের হামলার তালিকায় ছিল ভারত: সিআইএ

নাইন ইলেভেনের আগে লাদেনের হামলার তালিকায় ছিল ভারত: সিআইএ
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের একটি ভবনে বিমান হামলা। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) প্রকাশিত গোপন নথিতে দাবি করা হয়েছে, আল-কায়েদার সাবেক নেতা ওসামা বিন লাদেন একসময় হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে ভারতসহ কয়েকটি দেশের নাম বিবেচনায় রেখেছিলেন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার ২৫ বছর পূর্তিতে শুক্রবার বিন লাদেন সংক্রান্ত ৭০টির বেশি প্রেসিডেন্সিয়াল গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিআইএ। এতে শতাধিক পৃষ্ঠার নথি রয়েছে।

গোয়েন্দা নথির বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, ১৯৯৮ সালের ২৮ আগস্টের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিন লাদেন একাধিক দেশে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিলেন। হামলার সম্ভাব্য দেশের তালিকায় ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তান, মিসর, কুয়েত, সৌদি আরব, ইয়েমেন, উগান্ডা এবং ‘সম্ভবত’ নাইজেরিয়ার নামও ছিল।

‘বিন লাদেনের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক এখনো হুমকি’ শিরোনামের ওই নথিতে তথ্যের উৎস গোপন রাখা হয়েছে। তবে এতে ভারতের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু, হামলার তারিখ বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার উল্লেখ নেই।

সঙ্গীদের নিয়ে ওসামা বিন লাদেন। ছবি: এপি/ইউএনবি

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ায় বিন লাদেনের সুপ্রতিষ্ঠিত অবকাঠামো থেকে বোঝা যায়, এসব অঞ্চলেও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের সক্ষমতা তার ছিল।

নথিতে দাবি করা হয়, আফগানিস্তানে অবস্থানরত ওসামা বিন লাদেন ও অন্য সন্ত্রাসী নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন এবং তাদের যোগাযোগব্যবস্থা সচল ছিল। আল-কায়েদা আবারও কয়েকটি প্রশিক্ষণ শিবিরে কার্যক্রম শুরু করেছিল এবং কিছু শিবির স্থানান্তর করা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন

আফগানিস্তানের আল-কায়েদা শিবিরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেও বিন লাদেন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আরও হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিলেন বলে দাবি করা হয় প্রতিবেদনে।

নথিতে আরও বলা হয়, আল-কায়েদার প্রধান অন্তত ৬০টি দেশে থাকা ব্যক্তি ও সহযোগী সংগঠনের নেটওয়ার্ককে হামলা চালানোর জন্য কাজে লাগাতে পারেন।

আরও পড়ুন: নাইন ইলেভেনের ২৫ বছর: আরও জটিল নিরাপত্তাবলয়ে বাংলাদেশ

সিআইএ প্রকাশিত এসব প্রেসিডেন্সিয়াল গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে সংস্থাটি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টদের একাধিকবার সতর্ক করেছিল। এসব প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সময় থেকে জর্জ ডব্লিউ বুশের শাসনামল পর্যন্ত আল কায়েদা সম্পর্কে সতর্ক করার প্রমাণ রয়েছে।

সিআইএ এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রকাশিত নথিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার সময়ের আগে ও পরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা নথিগুলোর বিষয়ে নজিরবিহীন স্বচ্ছতা তৈরি করেছে।

সিআইএ’র প্রকাশিত নথি। ছবি: এনডিটিভি

 

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ১৯ জন আল-কায়েদা সদস্য চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। এতে দুটি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়ে।

তৃতীয় বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে আঘাত করে। চতুর্থ বিমানটি সম্ভবত হোয়াইট হাউস বা কংগ্রেস ভবনে হামলার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবে ধারণা করা হয়, যাত্রীদের প্রতিরোধের পর সেটি পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।

ওই সন্ত্রাসী হামলায় বিমানগুলোর যাত্রী, ক্রুসহ মোট দুই হাজার ৯৯৬ জন নিহত হন। ১৯ জন আল-কায়েদা সদস্যও আত্মঘাতী ওই হামলাগুলোতে নিহত হন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর