বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তসংলগ্ন জলপাইতলি, চাকমা পাড়া ও বেতবুনিয়া এলাকার ওপারে মিয়ানমার থেকে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। এতে সীমান্ত এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এ গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ৩৪ ও ৩৫ নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় হঠাৎ ভারী ও হালকা অস্ত্রের গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো সীমান্ত। অন্তত ১২০ থেকে ২০০ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
সীমান্তের বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘হঠাৎ করেই সীমান্তের ওপার থেকে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসে। বেতবুনিয়া, জলপাইতলি ও চাকমাপাড়া এলাকার মানুষজন আতঙ্কে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা গেছে।’
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শফিকুল ইসলাম জানান, ‘সন্ধ্যার দিকে মিয়ানমারের অংশে আরাকান আর্মির (এএ) সঙ্গে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর থেকে সীমান্তের এপারের মানুষও চরম ভীতির মধ্যে রয়েছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্ক আরও ছড়িয়ে পড়ে।’
বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ঢেকিবনিয়া ও রাইট তুমব্রু এলাকায় আরাকান আর্মিকে লক্ষ্য করে দুই দিক থেকে হামলা চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রোহিঙ্গা সংহতি সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগানাইজেশন (আরএসও) ও আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) যৌথভাবে এই হামলায় জড়িত থাকতে পারে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ত্রিমুখী সংঘর্ষ চলে এবং এতে ভারী ও হালকা অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ১২০ থেকে ২০০ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে।’
তিনি বলেন, ‘হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে সীমান্তে অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। গোলাগুলির পর থেকেই সীমান্তের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে গত শুক্রবার ভোর ৫ টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে উখিয়ার বালুখালী ও রহমতের বিল সীমান্তের আধিপত্য বিস্তার ও মাদক পাচারের পথ নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের মুখে পড়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫০ থেকে ৬০ জন সদস্য বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে পড়ে। তারা জামতলি ও শফিউল্লাহ কাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দিকে চলে আসে বলে একটি সূত্র জানায়।


