বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য ঘোষিত শুল্ক ও কর প্রণোদনা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এই উদ্যোগের পূর্ণ সুবিধা ঘরে তুলতে এবং একটি টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ নির্মাণে এখন সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) এবং বেশ কয়েকটি সহযোগী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সভায় আলোচকেরা উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বেশ কম, যার ফলে জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা ক্রমাগত বাড়ছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে নতুন বাজেটে সৌর প্যানেল, ইনভার্টার ও লিথিয়াম ব্যাটারিসহ মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে যে শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা ইতিবাচক।
এই প্রণোদনার ফলে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে রুফটপ সোলার স্থাপনের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে, যা বেসরকারি বিনিয়োগকে আরও উৎসাহিত করবে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রবেশাধিকার ও রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে পরিবেশবান্ধব এই জ্বালানি রূপান্তর এখন সময়ের দাবি, বক্তারা বলেন।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে নীতিগত প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।
সভায় মূল প্রবন্ধে রেসকো মডেলের অর্থায়ন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়া হয়।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা একটি ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করতে অব্যবহৃত সরকারি জমিতে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন, গ্রিড আধুনিকীকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রযুক্তি সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়তে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনা সভাটির সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন, ব্রাইটার্স, ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থা, বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ার, ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, ইকুইটিবিডি, ইআরডিএ, গ্লোবাল ল’ থিংকার সোসাইটি, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, ওএবি ফাউন্ডেশন, অর্গানাইজেশন ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল কনজারভেশন, রিভার বাংলা, সচেতন ফাউন্ডেশন, উপকূল ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলন, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, ইয়াং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক, ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, তরঙ্গ ফাউন্ডেশন এবং অদম্য ’১৯ ইয়ুথ ফাউন্ডেশন।


